Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গাঁজা সহ উত্তরবঙ্গের তিন কিশোর গ্রেপ্তার, মাদক পাচারে ক্যারিয়ার এখন স্কুলছুটরা, চাঞ্চল্য

মাদক পাচারে ক্যারিয়ার এখন স্কুলছুটরা। অসহায় পরিবারের স্কুলছুট কিশোরদের টার্গেট করছে মাদক কারবারিরা।

গাঁজা সহ উত্তরবঙ্গের তিন কিশোর গ্রেপ্তার, মাদক পাচারে ক্যারিয়ার এখন স্কুলছুটরা, চাঞ্চল্য
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মাদক পাচারে ক্যারিয়ার এখন স্কুলছুটরা। অসহায় পরিবারের স্কুলছুট কিশোরদের টার্গেট করছে মাদক কারবারিরা। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এবার গাঁজার ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করছে উত্তরবঙ্গের কিশোরেরা। কোচবিহার থেকে গাঁজা ভরা পার্সেল কিশোরদের হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে সর্বত্র। পুলিসকে বোকা বানাতে ১৩-১৬ বছরের কিশোরদের দিয়ে মাদক পাচার চালাচ্ছে কারবারিরা। বালকদের পিঠে থাকা স্কুল ব্যাগের মধ্যে যে গাঁজার প্যাকেট থাকতে পারে, তা পুলিসের মাথায় আসবে না। আবার কখনও রোগা বালকদের গায়ে সেলোটেপ দিয়ে সাঁটানো থাকছে গাঁজার পুরিয়া। সহজে পুলিসের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য এমন অভিনব কৌশল নিয়েছে কারবারিরা। মাত্র কয়েক হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে কিশোরদের নামানো হচ্ছে এই মাদক কারবারে। যা নিয়ে বেশ উদ্বেগে রয়েছে পুলিস। সামশেরগঞ্জের ডাকবাংলো মোড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে পুলিস সোমবার রাতে পাঁচজনকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেশ অসঙ্গতি মেলে। পুলিসের সন্দেহ হয়। তাদের মধ্যে তিন জন নাবালক। তাদের বাদ দিয়ে অপর দুজনকে তল্লাশি করে কিছুই পাওয়া যায়নি। এমন সময় ওই তিন নাবালকের শরীরী ভাষা দেখে পুলিস তাদের ব্যাগপত্র তল্লাশি করে। তখনও কিছু উদ্ধার হয়নি। তারপর কিশোরদের চলাফেরা দেখে সন্দেহ হয় পুলিসের। তাদের পোশাক খুলতেই দেখা যায় গায়ের সঙ্গে সেলোটেপ দিয়ে আটকানো প্রায় সাড়ে ২২ কেজি গাঁজা। সঙ্গে সঙ্গে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাপ্পা চক্রবর্তী ও পূর্ণ শর্মা নামে দুজনকে মাদক সংক্রান্ত বিশেষ আদালতে পাঠানো হয়। অপরদিকে ওই তিন নাবালকের বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছর হওয়ায় তাদের বহরমপুরের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের কাছে পেশ করা হয়। ধৃতদের প্রত্যেকের বাড়ি শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানা এলাকায়।  

Advertisement

পুলিস আধিকারিকদের অনুমান, যেভাবে মাদক মামলায় আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা এড়াতেই কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের নাবালকদের পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে মাদক পাচারের ক্যারিয়ার হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে। তারা গাঁজা নিয়ে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলার সড়কপথে পৌঁছে দিচ্ছে গাঁজার কনসাইনমেন্ট। প্রতি ট্রিপে নাবালকরা পাচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা। 
আগে রেলপথ ব্যবহার করত কারবারিরা। কিন্তু বিভিন্ন স্টেশনে তল্লাশি বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বাসে করে কিশোরদের দিয়ে গাঁজা পাচার শুরু হয়েছে। এদিন রাতেও শিলিগুড়ি থেকে ওই তিন কিশোরকে নিয়ে দুই মাদক কারবারি বাস থেকে নামে। ডাকবাংলো মোড় থেকে অন্য গাড়ি বা বাস ধরার কথা ছিল তাদের। তার আগেই পুলিসের সন্দেহ হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এভাবে নাবালকদের মাদক পাচারের কাজে নামানো যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। কার কাছ থেকে মাদক নিয়ে কোথায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল, সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ