নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একদিকে পার্ক স্ট্রিট, অন্যদিকে শেক্সপিয়ার সরণি। দুই এলাকার দুটি স্বর্ণ বিপণির তিন কর্মীর বিরুদ্ধে অলঙ্কার হাতানোর অভিযোগ উঠেছে। সবমিলিয়ে প্রায় চার কোটির বেশি গয়না হাতিয়ে তারা বিয়ের মরশুমে বিক্রি করেছে বলে জানা যাচ্ছে। আলাদা আলাদা দুটি ঘটনায় ওই তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে দু’জনকে পাকড়াও করা হয়েছে আসানসোল স্টেশনে, হাওড়ামুখী এক দূরপাল্লার ট্রেন থেকে। ধৃতদের জেরা করে খোয়া যাওয়া সোনার গয়না উদ্ধারের চেষ্টা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শেক্সপিয়ার সরণি এলাকার প্রিটোরিয়া স্ট্রিটে একটি নামী সোনার দোকানের কর্মী ছিল শশীভুষণ। সে গয়নার স্টক দেখাশোনার দায়িত্বে ছিল। দোকানে দীর্ঘ ১০বছর কাজ করা এই কর্মীর প্রতি সকলের অগাধ বিশ্বাস ছিল। সেই সুযোগটাই নিয়েছিল ওই কর্মী। ধীরে ধীরে দামি দামি গয়না হাতিয়ে বিহারের আরায় নিজের বাড়িতে পাঠাতে শুরু করে। এরই মধ্যে একদিন শশীভূষণ দোকানের মালিককে জানায়, তার মা অসুস্থ। তাই ছুটি লাগবে। স্টকের তালিকা না দিয়েই বিহারে ফিরে যায় ওই কর্মী। বারবার ফোন করে তাকে ডাকা হলেও, বিভিন্ন অজুহাতে আসতে অস্বীকার করে। এরই মধ্যে জানা যায়, পরিবারকে বিহারে পাঠিয়ে দিয়ে ভাড়া বাড়িও ছেড়ে দিয়েছে শশীভূষণ। বিক্রি করে দিয়েছে বাইকটিও। সন্দেহ ঘনীভূত হওয়ায়, দোকানের গয়নার স্টক মিলিয়ে দেখা হয়। জানা যায়, দেড় কোটি টাকার গয়না লোপাট। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে নেমে অফিসাররা জানতে পারেন, শশীভূষণ বিহারের বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছে। আরও জানা যায়, কলকাতা থেকে হাতানো গয়না বিহারের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়েছে। বিয়ের মরশুমে গয়নাগুলি বিক্রি করত শশীভূষণ। এরপর তার মোবাইল নম্বর জোগাড় করেন তদন্তকারীরা। তার সূত্র ধরেই জানা যায়, বিভূতি এক্সপ্রেসে চেপে সে বুধবার হাওড়ায় আসছে। কামরা নম্বর-এস ৫। সেইমতো তদন্তকারী দল পৌঁছে যায় আসানসোল স্টেশনে। ট্রেন আসতেই কামরায় উঠে তল্লাশি শুরু হয়। সেখান থেকে ধরা হয় শশীভূষণ ও তার সহযোগী অনিকেত গুপ্তাকে। ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে, চোরাই গয়না বিক্রির জন্য তারা এজেন্ট রেখেছিল। তাদের মাধ্যমেই বিভিন্ন বাড়ির বিয়ের অনুষ্ঠান পর্বে বিক্রি হতো এই গয়না।
অন্যদিকে পার্ক স্ট্রিটে জুয়েলারি দোকানের কর্মী ভল্টের দায়িত্বে ছিল। সেখানে পুরনো সোনা রাখা হতো। সেই সোনা গলিয়ে নতুন অলঙ্কার তৈরি হতো। কত গ্রাম সোনা কোন কারিগরকে দিতে হবে, তার তালিকা মালিক তার কাছে পাঠাতো। জানা যায়, খাতায়কলমে সবকিছু ঠিক দেখানো হয়েছে। বাস্তবে কিন্তু সমপরিমাণ সোনা দেওয়া হতো না কারিগরকে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের সোনা দেওয়ার পর বাকিটা নিজের কাছে রাখত ভল্টের কর্মী। এরপর তা নিয়ে বাড়ি চলে যেত। সেগুলি বিক্রি করত বিভিন্ন জায়গায়। মোবাইলের সূত্র ধরে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।