নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তৎপর হাওড়া পুরসভা। বৃহস্পতিবার মধ্য হাওড়ার কদমতলা বাজারে ‘স্বচ্ছতা সংকল্প’ অভিযানে নামেন পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মন্ত্রী উমেশ রাই এবং হাওড়া পুরসভার কমিশনার তেজস্বী রানা। ছিলেন পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিক-কর্মীদের পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্মীরাও।
ফি বছর বর্ষার শেষে, দুর্গাপুজোর আগে হাওড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। মশাবাহিত এই রোগে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। সেই পরিস্থিতি এড়াতে এবার আগেভাগে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে পুরসভা। দিন দুয়েক আগে স্বাস্থ্য ভবনে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই শহরজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ সচেতনতা ও মশা নিয়ন্ত্রণ অভিযান। এদিন কদমতলা বাজার ঘুরে দেখেন মন্ত্রী ও পুর আধিকারিকরা। বিক্রেতাদের যেখানে সেখানে জল ও আবর্জনা জমিয়ে না রাখার জন্য সতর্ক করেন উমেশ রাই। নির্দিষ্ট জায়গায় জঞ্জাল ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়। মন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এই অভিযান শুরু হয়েছে। এদিন ফগ মেশিনে মশা নিধনের পাশাপাশি মশার লার্ভা মারতে বিভিন্ন জায়গায় তেল স্প্রে করা হয়।
উমেশ রাই বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। যেখানে সেখানে জঞ্জাল ফেললে আর্থিক জরিমানা করা হবে। গতকালই হাওড়া পুরসভায় অনলাইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা জমা পড়েছে। তাঁর কথায়, ‘টাকার জন্য নয়, মানুষকে সচেতন করতেই জরিমানা করা হচ্ছে।’ কমিশনার তেজস্বী রানা জানান, তিনদিন ধরে চলবে সচেতনতা অভিযান। প্রথম দিন বাজার ও বাসস্ট্যান্ড, দ্বিতীয় দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কারখানা এবং তৃতীয় দিন নির্মীয়মাণ বাড়ি ও পার্কে অভিযান চালানো হবে। প্রয়োজনে ড্রোনের সাহায্যেও মশার লার্ভা মারার তেল স্প্রে করা হবে। যেখানে লার্ভার সন্ধান মিলছে, সেখানেই তেল প্রয়োগ করে তা নষ্ট করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চলবে। নিজস্ব চিত্র