Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এগরায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর গয়না নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার তিন

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এগরায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর উপর আগ্নেয়াস্ত্র ও ভোজালি নিয়ে চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। ব্যবসায়ী ও তাঁর বন্ধুকে জখম করে লক্ষাধিক টাকার সোনার গয়না এবং নগদ টাকা লুট করে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এগরায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর গয়না নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার তিন
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এগরায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর উপর আগ্নেয়াস্ত্র ও ভোজালি নিয়ে চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। ব্যবসায়ী ও তাঁর বন্ধুকে জখম করে লক্ষাধিক টাকার সোনার গয়না এবং নগদ টাকা লুট করে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু, শেষরক্ষা হয়নি। আক্রান্ত ওই ব্যবসায়ীর তৎপরতা ও গ্রামবাসীদের সাহসিকতায় হাতেনাতে ধরা পড়ল দুষ্কৃতীরা। পুলিশ তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই ব্যবসায়ী এবং তাঁর বন্ধু প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়েছেন।

Advertisement

এগরার এসডিপিও দেবীদয়াল কুণ্ডু বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আমরা ধৃতদের জেরা করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, চাটলা বাজারে জুয়েলারি দোকানের কর্ণধার যিশু কামিলা প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতে দোকান বন্ধ করে মালপত্র নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। সেই সময় ফাঁকা রাস্তায় তাঁর উপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। নির্জন রাস্তায় দুষ্কৃতীরা ওঁত পেতেছিল। যিশুবাবুকে একা পেয়ে তাঁর পথ আটকায় এবং ভোজালি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হাতে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে দুষ্কৃতীরা তাঁকে ভোজালির কোপ মারে এবং গয়নাগাটি ও টাকাপয়সা থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও তিনি ফোন করে সহকর্মী এবং বন্ধুদের খবর দেন। 
খবর পেয়ে চাটলা বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা সেখানে দৌড়ে আসেন। চাটলা বাজারে যিশুবাবুর বন্ধু সান্টু জানা দুষ্কৃতীদের বাইক আটকানোর চেষ্টা করলে তাঁকেও মাথায় ভোজালি দিয়ে আঘাত করে পালায় তারা। এরপরই চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা হয় এলাকা। এক কিলোমিটারের মধ্যেই ছিল ওড়িশা সীমানা। পালানোর পথ না পেয়ে শেষমেশ স্থানীয় লোকজনের হাতে তিন ছিনতাইকারী ধরা পড়ে। তাদের উত্তেজিত জনতা একটি ঘরে আটকে রাখে এবং গণধোলাই দেয়। 
ছিনতাই ও গণপিটুনির খবর পেয়ে পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ধৃতদের কাছ থেকে বাইক, ভোজালি প্রভৃতি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। স্বর্ণ ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। আটক বাইকের নম্বরটি ওড়িশার। তা দেখে পুলিশের ধারণা, দুষ্কৃতীরা ওড়িশা থেকে এসেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে দুষ্কৃতীদলের বাকিদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ