Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঢাকি সহ বিসর্জনের হুঙ্কার! প্রাক্তন বিচারপতির এজেন্ট-পত্নীও ‘দাগি’

২৬ হাজার চাকরি বাতিলের তিনিই রূপকার। ‘ঢাকি সহ বিসর্জন’ দেওয়ার হুঙ্কারও তাঁরই ছিল। ‘অযোগ্য’দের খুঁজে না পাওয়া গেলে গোটা প্যানেল যে খারিজ হয়ে যাবে, বিচারপতির আসনে বসে সেই পথ দেখিয়েছিলেন তিনি।

ঢাকি সহ বিসর্জনের হুঙ্কার! প্রাক্তন বিচারপতির এজেন্ট-পত্নীও ‘দাগি’
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁকটিয়া: ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের তিনিই রূপকার। ‘ঢাকি সহ বিসর্জন’ দেওয়ার হুঙ্কারও তাঁরই ছিল। ‘অযোগ্য’দের খুঁজে না পাওয়া গেলে গোটা প্যানেল যে খারিজ হয়ে যাবে, বিচারপতির আসনে বসে সেই পথ দেখিয়েছিলেন তিনি। একদা হাইকোর্টের মহামান্য বিচারপতি, আর এখন তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আর তাঁরই নির্বাচনী এজেন্ট দীপক দেবশর্মার স্ত্রী শ্রাবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ই নাকি ‘দাগি’! অন্তত এসএসসির তালিকা সে কথাই বলছে। হয় অর্থ, কিংবা প্রভাব খাটিয়ে তিনিও শিক্ষক হয়েছিলেন। প্রবেশ করেছিলেন ওই ২৬ হাজারি প্যানেলে। পটাশপুরের নেকুরসিনি বিবেকানন্দ বিদ্যাভবনের শিক্ষিকা ছিলেন তিনি। ‘অযোগ্য’ শিক্ষিকা হিসেবে স্কুলে যাওয়াও বন্ধ ছিল। শনিবার এসএসসির প্রকাশিত ১৮০৬ জন ‘অযোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকার তালিকায় শ্রাবন্তীদেবীর নাম থাকায় সেই ‘সত্যে’ই সিলমোহর পড়ল। এখানে প্রয়োজনীয় তথ্যটি কী? শ্রাবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বামীর পরিচয়। দীপকবাবু বিজেপির মণ্ডল কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বল্লুক-১অঞ্চলের নির্বাচনী কমিটির কনভেনারও। সেই সুবাদে ওই এলাকায় অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। অভিজিৎবাবু শিক্ষক নিয়োগ মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ১৮০৬ জন অযোগ্য প্রার্থীর জন্য হাজার হাজার ‘যোগ্য’কে চাকরিহারা করার পথ সুগম করেছেন। বিচারপতি পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। এবং বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে সাংসদ হিসেবে পার্লামেন্টে পা রেখেছেন। কিন্তু বড়ই দুঃখজনক বিষয়, তাঁরই নির্বাচনী এজেন্টের স্ত্রী ‘দাগি’ বলে চিহ্নিত হয়ে এখন স্কুলমুখো হন না। সে অবশ্য সিবিআই তদন্তের ভিত্তিতে আদালতে রিপোর্ট জমা পড়ার পর থেকেই। স্কুলের টিচার ইনচার্জ জগদীশ মহাপাত্রও এর সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, ‘শ্রাবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের স্কুলে ইতিহাসের শিক্ষিকা ছিলেন। অযোগ্য ঩তালিকায় নাম থাকায় তিনি আর স্কুলে আসছেন না।’

Advertisement

এই ঘটনায় প্রাক্তন বিচারপতি কতটা বিড়ম্বনায় পড়লেন জানা নেই। তিনি আপাতত দিল্লিতেই ঘাঁটি গেড়ে বসে আছেন। তমলুকে খুব একটা তাঁর দেখা পাওয়া যায় না। কিন্তু দীপকবাবু বেজায় অস্বস্তিতে। সোমবার শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের কাঁকটিয়ায় তাঁর ভাড়াবাড়িতে গিয়ে ওই দম্পতিকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ মেলে কৃষ্ণগঞ্জ কৃষি শিল্প বিদ্যালয়ে। তিনি ওই স্কুলের পার্শ্বশিক্ষক। দীপকবাবু বলেন, ‘সাত-আট বছর চাকরি করার পর এভাবে চাকরি বাতিল হওয়ায় স্ত্রী ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছে। মেয়ে এবার উচ্চ মাধ্যমিক দেবে। এই অবস্থায় স্ত্রী যাতে কোনও অঘটন না ঘটিয়ে ফেলে, সে জন্য সর্বদা তার পাশে রয়েছি। দু’বেলা ডাল-ভাত জোগাড় করে দিতে পারব বলে বারবার আশ্বস্ত করছি।’
তমলুক লোকসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন শিক্ষক নিয়োগ মামলাকে পুরোদমে প্রচারের ইস্যু করেছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি। হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, ‘অযোগ্যদের চাকরি আমি খেয়েছি। এবার মারাও যাবে।’ ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল হঠাৎ এই হুঙ্কার দেওয়ার সময়ও কি তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট ভেবেছিলেন, তাঁর স্ত্রী নিজেই চাকরি হারাবেন? সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া তাঁর আর কিছুই করার থাকবে না? তবে হ্যাঁ, লোকসভা ভোটে ওই ‘হঠাৎ রাজনীতিকে’র সেনাপতি দীপকবাবু এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছেন। স্বেচ্ছায় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মেয়ের উচ্চ মাধ্যমিককে অজুহাত করে আপাতত দল থেকে নিজেকে অনেকটা সরিয়েও নিয়েছেন। বলছিলেন, ‘আমি বল্লুক-১ অঞ্চলের নির্বাচনী কমিটির কনভেনার ছিলাম। মণ্ডল কমিটির সহ সভাপতিও। তবে এখন দলের কোনও পদে নেই। এবছর মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক দেবে। তাই আমি নিজে পার্টির সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে দূরে আছি। এই মুহূর্তে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোটা জরুরি।’
যদিও জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা, বিজেপির বামদেব গুছাইতের সাফাই, ‘দীপক দেবশর্মা একসময় তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতা ছিলেন। সেই সুবাদে তাঁর স্ত্রীর চাকরি হয়েছিল। তিনি বিজেপির কোনও পদে ছিলেন না। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়েরও নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন না। নির্বাচনী কমিটি নানা ইস্যুতে করা হয়। সেই কমিটির কনভেনার হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ