নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও চুঁচুড়া: বয়স প্রায় ৪৩ বছর। ২০১০ সালের ব্যাচ। পুলিস অফিসার হিসেবে যতটা দক্ষ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রেও সমান দক্ষতা ছিল জয়ন্তর। একইসঙ্গে তাঁর নারীসঙ্গ নিয়েও কানাঘুষো রয়েছে সহকর্মীদের মধ্যে। হুগলির চণ্ডীতলা থানার আইসি জয়ন্ত পালের কীর্তিতে তাজ্জব জেলার পুলিসমহল। অনেকেই বলছেন, জয়ন্তবাবুর ক্ষেত্রে এমনটা হওয়ারই কথা ছিল।
Advertisement
বছর তিনেক আগে চণ্ডীতলা থানায় আইসি পদে কাজ শুরু করেন জয়ন্ত পাল। এর আগে সিঙ্গুর থানার ওসি ছিলেন তিনি। মাঝে বেশ কিছু সময় জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চেও ছিলেন। তদন্তের ক্ষেত্রে এবং খেলার মাঠে, দু’দিকেই পারদর্শী ছিলেন জয়ন্তবাবু। একইসঙ্গে তাঁর একাধিক নারীসঙ্গের ব্যাপারে আগে থেকে অবগত সহকর্মীদের অনেকে। বুধবার রাতে এক তরুণী বান্ধবীর সঙ্গে বচসার জেরে হাওড়ায় প্রকাশ্য রাস্তায় নিজেই নিজের হাতে গুলি চালান জয়ন্ত। জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। এই ঘটনায় সহকর্মীদের অনেকে বলছেন, ‘জয়ন্তর সঙ্গে যে এমনটা ঘটতে পারে, তা তাঁর স্বভাব চরিত্রেই পরিষ্কার। নিজের থানার এলাকা ছেড়ে মাঝেমধ্যেই অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রবণতা ছিল তাঁর। বুধবার রাতে তিনি যে ব্যক্তিগত কারণে হাওড়ায় যাচ্ছেন, তা আগে থেকে জানিয়ে যাননি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।’ অর্থাৎ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অন্যত্র যাচ্ছেন, সেটা জানতেনই না সার্কেল ইনসপেক্টর। কলকাতায় এক ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন বলে তিনি নাকি মৌখিকভাবে কয়েকজনকে বলেছিলেন। এরপর যে এমন ঘটনা ঘটবে, তা আঁচ করতে পারেননি সহকর্মীরা।
হুগলি গ্রামীণ পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার সময় নিজের সার্ভিস রিভলবার থানায় জমা রেখে যেতে হয়। সেটাও করেননি জয়ন্তবাবু। একটি থানার দায়িত্বে থেকেও চরম কর্তব্যহীনতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। এটা কখনই কাম্য নয়।’ জয়ন্তর পরিচিত ও সহকর্মীদের মধ্যে অনেকে আবার এটাও বলছেন, বরাবরই তিনি নিজের ব্যক্তিগত বহু বিষয় দক্ষতার সঙ্গে লুকিয়ে রাখতেন। এবার যে এই পরিণতি হবে, হয়তো নিজেও বুঝতে পারেননি তিনি। তবে বরাবর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন জয়ন্ত।
হুগলি গ্রামীণ পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার সময় নিজের সার্ভিস রিভলবার থানায় জমা রেখে যেতে হয়। সেটাও করেননি জয়ন্তবাবু। একটি থানার দায়িত্বে থেকেও চরম কর্তব্যহীনতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। এটা কখনই কাম্য নয়।’ জয়ন্তর পরিচিত ও সহকর্মীদের মধ্যে অনেকে আবার এটাও বলছেন, বরাবরই তিনি নিজের ব্যক্তিগত বহু বিষয় দক্ষতার সঙ্গে লুকিয়ে রাখতেন। এবার যে এই পরিণতি হবে, হয়তো নিজেও বুঝতে পারেননি তিনি। তবে বরাবর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন জয়ন্ত।



