সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: অনলাইনে দেওয়া অর্ডারে ঠিকানা চেঞ্জ করতে গিয়ে সাইবার প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে ৭৫হাজার টাকা খুইয়েছিলেন বিষ্ণুপুর শহরের একটি স্কুলের শিক্ষিকা। সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইনে অভিযোগ জানানোর দু’মাস পর তিনি ওই টাকা ফেরত পেলেন। অর্পিতা দে নামে ওই শিক্ষিকা বিষ্ণুপুর শহরের শ্যামরাইবাজারের বাসিন্দা। মাত্র ৫০০টাকা দামের একটি বুক সেল্ফ কেনার জন্য তিনি অনলাইনে অর্ডার দিয়েছিলেন। তবে অর্ডার করার সময় যে ঠিকানা দিয়েছিলেন, তা তিনি চেঞ্জ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, চেষ্টা করেও তা না হওয়ায় ওই সংস্থার কাস্টমার কেয়ারের নম্বর দেখে ফোন করেন। তাতেই তিনি প্রতারকদের ফাঁদে পড়েন। বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুপ্রকাশ দাস বলেন, সাইবার প্রতারণার শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে ১৯৩০নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানালে দ্রুত সুরাহা পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে প্রতারকরা টাকা সরানোর আগেই তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রেও ওই শিক্ষিকা বিষ্ণুপুর থানায় আসার পরেই গোটা প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করায় তিনি টাকা ফেরত পেলেন। সেই জন্য আমরা সাধারণ মানুষকে বারবার সচেতন করছি।
Advertisement
শিক্ষিকা বলেন, বাড়িতে বইগুলি সাজিয়ে রাখার জন্য ৫০০টাকার একটি বুক সেল্ফ অনলাইনে অর্ডার দিয়েছিলাম। পরে ঠিকানা পরিবর্তন করতে গিয়ে সংস্থার কাস্টমার কেয়ারের নম্বরটি যে প্রতারকদের, তা আমি বুঝতে পারিনি। ওই নম্বরে ফোন করার পর ওরা একটি লিঙ্ক পাঠায়। তারপর একের পর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে বলে। সেটা করার পরেই আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকউন্ট থেকে ৭৫হাজার টাকা কাটা যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিষ্ণুপুর থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারকে বিশদে জানাই। তাঁর পরামর্শে ১৯৩০ নম্বরে ফোন করি। বিস্তারিত তথ্য দিয়ে অভিযোগ জানানো হয়। তারপরেই যে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছিল, তা ফ্রিজ করা হয়। দ্রুত অভিযোগ জানানোর ফলে প্রতারকরা তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরাতে পারেনি। অবশেষে দু’মাস পর অ্যাকাউন্টে টাকা ফেরত পেলাম।



