সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামের বিরিহান্ডি উদীয়মান তরুণ সঙ্ঘের দুর্গাপুজোর এবারের থিম ‘মা এবার বলবে’। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর থেকে এবার প্রতিমা আনা হবে। ফাইবারের তৈরি এই প্রতিমা বিদ্যুতের সাহায্যে নড়াচড়া ওঠা বসা করবে। ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে মহিলা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সঙ্গে ‘মা’ কথা বলবেন। এবছরে মূল থিম এটাই।
এর আগে জেলার সেরা মণ্ডপের জন্য এখানকার পুজো দু’বার রাজ্য সরকারের বিশ্ববাংলা সেরা শারদ সম্মান পেয়েছে। গত পাঁচ বছর বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছে এখানকার পুজো উদ্যোক্তারা। এর আগে দুয়ারে সরকার, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প সবকিছুই বিভিন্ন মূর্তির মাধ্যমে এই পুজো মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছিল। তা দেখতে মহিলাদের ভিড় উপচে পড়েছিল। এবছর এখানকার পুজো ১০ তম বর্ষে পা দিল।
২০১৭ সালে এখানকার প্যান্ডেল জেলায় প্রথম রাজ্য সরকারের বিশ্ববাংলা শারদ সম্মান পায়। ওই বছর পুজোর থিম ছিল ‘অদৃশ্য দুর্গা’। ওই বছর শহর এবং গ্রামাঞ্চল থেকে বহু দর্শনার্থী ভিড় করেছিলেন এই পুজোমণ্ডপে। ২০১৯ সালে ‘যমালয়ে জীবন্ত দুর্গা’ থিম মণ্ডপের জন্য বিশ্ববাংলা শারদ সম্মান পায় এই পুজো কমিটি। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে আগুইবনী গ্রাম পঞ্চায়েতের এই বিরিহান্ডি এলাকা এক সময় মাওবাদী সন্ত্রস্ত এলাকা হিসেবেই পরিচিত ছিল। এখানকার পুজো কমিটি বিগত কয়েক বছর ধরে নতুন নতুন পুজোর থিম তুলে ধরে জেলায় নজর কেড়েছে।করোনাকালের আগে এখানকার পুজো দেখতে গাড়ি ভাড়া করে দূরদূরান্ত দর্শনার্থীরা এসেছেন। রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তাও পায় উদীয়মান তরুণ সঙ্ঘ। এই পুজোকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ক্লাবের সভাপতি অর্করঞ্জন মাহাত, সম্পাদক মহেশ্বর মাহাত, মুখ্য উপদেষ্টা জগদীশ মাহাত সহ ৩০০ সদস্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবছর পুজোর বাজেট সাত লক্ষ টাকা। ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সৌম্য মাহাত বলেন, আমাদের পুজো জেলা তথা রাজ্যে নজর কেড়েছে। এবছরের থিমও চমক দেবে। এছাড়াও পুজোর কদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে।-নিজস্ব চিত্র