অভিষেক পাল, কল্যাণী: এবার বৌদ্ধ মন্দিরের আদলে সেজে উঠছে কল্যাণী আইটিআই মোড়ে লুমিনাস ক্লাবের মণ্ডপ। মায়ানমারের সিনবিউম প্যাগোডা বা বৌদ্ধ মন্দিরের অনুকরণে তৈরি হচ্ছে তাঁদের ৩৩তম বর্ষের মণ্ডপ। বিগত কয়েক বছরের মতো এবার এছাড়াও প্রতিমার অঙ্গের কয়েক কিলো সোনার গয়নাও হয়ে উঠবে বাড়তি আকর্ষণ। কয়েক বছরে ধরেই এই পুজোর নাম ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। পুজোর ক’টা দিন রেকর্ড ভিড় থাকে এই মণ্ডপ ঘিরে।
এই বছরও অপরূপ সাজে সেজে উঠছে তাদের মণ্ডপ। মণ্ডপশিল্পী উইলিয়াম সরকারের প্রচেষ্টায় এবং দৈনিক প্রায় ৭০ জন শ্রমিকের সহযোগিতায় থিমের পাশাপাশি আকাশছোঁয়া মণ্ডপের উচ্চতা এখনই নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের। প্রায় ১৭০ ফুট উচ্চতার এই মণ্ডপের বাইরের অংশ তৈরি হচ্ছে ধবধবে সাদা ফাইবার ও প্লাই দিয়ে। আর অন্দরের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার জন্য ব্যবহার হচ্ছে পাটকাঠি, কদবেল, পাহাড়ি ফল-সহ বিভিন্ন সামগ্রী। এগুলির উপর বার্নিশ করে হস্তশিল্পের কাজ করা হচ্ছে। এছাড়াও বিশেষ আলোর মাধ্যমে মণ্ডপের থিমকে আরও জীবন্ত করে তোলা হবে। পুজো ঘিরে থাকবে মেলা।
উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, আগামী ২১ তারিখ মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে ভার্চুয়ালি এই মণ্ডপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে। ক্লাবের অন্যতম উদ্যোক্তা অরূপ মুখোপাধ্যায় বলেন, এবারের থিম শুধু স্থাপত্যের অনুকরণ নয়। বরং এর মধ্যে লুকিয়ে আছে শান্তি, সহনশীলতা এবং আধ্যাত্মিকতার বার্তা। বিগত বছরগুলির ভিড়ের রেকর্ড এবছর ভাঙবে বলে আমাদের আশা।
লুমিনাস ক্লাব ছাড়াও কল্যাণী শহরে রয়েছে একাধিক ছোট ও বড় বাজেটের পুজো। এছাড়াও রয়েছে শহরের এ-২ এবং এ-১০ এর পুজো। এত বড় আকারে হয় না বটে। তবে ওই দু’টি পুজোতে থাকে সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। সঙ্গে থাকে ঘরোয়া অনুষ্ঠান থেকে খাওয়া-দাওয়া– সব কিছুই। মডেল মণ্ডপের পাশাপাশি মানানসই প্রতিমা ও আলোকসজ্জারও আয়োজন থাকে। সেই মণ্ডপ দু’টি তৈরির কাজও চলছে জোরকদমে। এখানেও দর্শকদের ভিড় নেহাত কম হয় না। এই উদ্যোক্তারাও তাঁদের পুজো নিয়ে খুবই উৎসাহী ও আশাবাদী। নিজস্ব চিত্র