Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

এবার ওষুধেও ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসালেন ট্রাম্প, চিন্তায় ভারতও

আবার আঘাত ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যে আঘাতের বড়সড় বাণি‌জ্য ক্ষতির অভিঘাত এসে লাগবে ভারতেও। ব্র্যান্ডেড এবং পেটেন্ট প্রাপ্ত ওষুধের উপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক লাগবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এবার ওষুধেও ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসালেন ট্রাম্প, চিন্তায় ভারতও
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আবার আঘাত ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যে আঘাতের বড়সড় বাণি‌জ্য ক্ষতির অভিঘাত এসে লাগবে ভারতেও। ব্র্যান্ডেড এবং পেটেন্ট প্রাপ্ত ওষুধের উপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক লাগবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আসবাবপত্র, রান্নাঘরের সামগ্রী এবং ট্রাক। এইসব শুল্ক এড়ানোর একটা‌ই পথ। আমেরিকার কারখানায় উৎপাদন করতে হবে। ওষুধ নিয়ে এই আমদানি শুল্কের প্রভাব নিয়ে ভারতীয় বাণিজ্য এতটা‌ই অনিশ্চিয়তা এবং সংশয়ের মধ্যে পড়েছে যে, এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সিংহভাগ নামজাদা ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার শেয়ারে ধস নামে শুক্রবার। গোটা বিশ্ব এই সিদ্ধান্তে স্তম্ভিত। এরকম শুল্ক যুদ্ধের শেষ কোথায়? এই প্রশ্ন উঠেছে। আমেরিকার অন্দরে প্রবল ঝড় উঠেছে। সরাসরি মুখ খুলেছে মার্কিন চেম্বার অব কমার্স। ১অক্টোবর থেকে নয়া শুল্ক চালু হবে। 

Advertisement

ভারতীয় ওষুধ শিল্পে শুক্রবার প্রবল সংশয় তৈরি হয়েছে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত খুঁটিনাটি নিয়ে। অর্থাৎ ট্রাম্পের ওই শুল্কের আঘাত যদি শুধুমাত্র ব্র্যান্ড সংবলিত ও পেটেন্ট প্রাপ্ত ওষুধের ক্ষেত্রেই হয়, তাহলে জেনেরিক ওষুধে ছাড় দিয়েছেন ট্রাম্প। আর সেটা যদি সত্যি হয়, তাহলে ভারত রপ্তানি বাণিজ্যে আলোকরেখা দেখতে পাচ্ছে। কারণ আমেরিকায় বিশ্বের যত দেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ সাপ্লাই হয়, তার মধ্যে সর্বোচ্চ রপ্তানিকারী হল ভারত। ৪০ শতাংশ। আমেরিকায় ২০৩০ সালের মধ্যেই ভারতের জেনেরিক ওষুধের রপ্তানি বাণিজ্য পৌঁছবে ১৩ হাজার কোটি ডলারে। ইন্ডিয়ান ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যালায়েন্স এদিন জানিয়েছে, জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিতে এই শুল্ক আরোপ কোনও প্রভাব ফেলবে না। আবার পাশাপাশি ভারতের বৃহৎ ওষুধ কোম্পানিগুলির নিজস্ব ইউনিট আগে থেকেই আমেরিকায় আছে। অর্থাৎ তারা শুল্কের আওতায় আসবে না। কিন্তু মাঝারি ভারতীয় ওষুধ উৎপাদনকারী সংস্থার রপ্তানি বাণিজ্য বিরাট ধাক্কা খাবে।
বস্তুত আমেরিকায় যত ওষুধ আমদানি করা হয়, তার ৩১ শতাংশই পাঠায় ভারত। ক্যান্সার থেকে ভ্যাকসিন, প্যারাসিটামল থেকে ডায়াবেটিস— ভারতীয় সংস্থাগুলির ওষুধই সিংহভাগ। তাই প্রভাব যেমন পড়বে ভারতে, তেমনই সংকটে পড়বে আমেরিকার নাগরিকরাও। সেখানে দাম অনেকটাই বাড়বে। কিন্তু রপ্তানি বাণিজ্যের লোকসান ঠেকাতে ভারতের অভ্যন্তরেই আবার ওষুধ কোম্পানিগুলি দাম বাড়াতে শুরু করবে না তো? এই চিন্তা গ্রাস করছে সরকারকেও। 

সম্পর্কিত সংবাদ