Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার অধিবেশনের সম্প্রচার সরাসরি, কাজকর্ম পেপারলেস, কেন্দ্রীয় নেভা প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাও

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং শুরু। কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অংশগ্রহণের ফলে জনগণ আরো জানতে পারবেন। বিস্তারিত পড়ুন।

এবার অধিবেশনের সম্প্রচার সরাসরি, কাজকর্ম পেপারলেস, কেন্দ্রীয় নেভা প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাও
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলিকে ‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার কেন্দ্রীয় প্রকল্পে (নেভা) এবার শামিল হল পশ্চিমবঙ্গ। এর মাধ্যমে সবাই বিধানসভার যাবতীয় তথ্য এবং অধিবেশনের লাইভ স্ট্রিমিং অনলাইনে জানতে ও দেখতে পারবেন। বিধানসভার কাজকর্ম ‘পেপারলেস’ হবে। বৃহস্পতিবার এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নবান্ন থেকে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের পূর্বতন সরকারের সমালোচনায় মুখর হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লি থেকে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন সংসদীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু এবং মন্ত্রকের দুই রাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারি আধিকারিকরা। ‘মউ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দিল্লিতে ছিলেন রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য বিধানসভায় পাঁচবছর বিরোধী দলনেতা থাকাকালে ১১ মাস তাঁকে সাসপেন্ড করে বিধানসভা চালানো হয়েছে। পূর্বতন সরকার গণতন্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ডিজিটাল ব্যবস্থা করা হয়নি। সেখানে ভোটাভুটি এখনো কাগজেই হয়, ইলেকট্রনিক যন্ত্রে নয়! অধিবেশনের ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ হয় না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে নিজের পেজে লাইভ স্ট্রিমিং করতেন। কেন্দ্রীয় প্রকল্পটি রাজ্যে আগে চালু না-হওয়ায় রাজ্যের মানুষের ক্ষতি হয়েছে। পূর্বতন সরকার কোনো কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে চালু করতে দিত না। 

Advertisement

রাজ্য বিধানসভার ঐতিহ্য তুলে ধরতে প্রয়াত জননেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ আনেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন তাঁর উদ্যোগে বাংলা আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির প্রস্তাব পাশ হয়। দেরিতে প্রকল্পে অংশগ্রহণের কারণে পূর্বতন সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন বিধানসভার স্পিকারও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু বলেন, দেশের সবচেয়ে পুরানো আইনসভায় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করার জন্য এবার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে রাজ্যের বিধায়কদেরও কাজে সুবিধা হবে। তাঁদের দেওয়া হবে বিশেষ প্রশিক্ষণ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষও আরো জানতে পারবেন—বিধানসভায় কী হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদ ও দেশের বিধানসভাগুলিকে একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘ওয়ান নেশন ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’-এর মধ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন কয়েকবছর আগেই। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ন্যাশনাল ই-বিধান অ্যাপ্লিকেশন (নেভা) চালু করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ এতে শামিল হল ৩১তম বিধানসভা হিসাবে। এদিন এই উপলক্ষ্যে দিল্লিতে কেন্দ্র, রাজ্য ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মধ্যে ‘মউ’ স্বাক্ষর হয়। এই ব্যবস্থায় একটি পোর্টালে বিধানসভা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য, রিপোর্ট, নির্দেশ প্রভৃতি জানা ছাড়াও অধিবেশনের লাইভ স্ট্রিমিং দেখা যাবে। এই প্রকল্পে খরচের ৬০ শতাংশ কেন্দ্রের।

সম্পর্কিত সংবাদ