নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এআই দিয়ে এসআইআর পর্বে ভোটার তালিকা সংশোধন হয়েছিল। এবং সেই এসআইআরের ভ্রান্তি সর্বজনবিদিত। এবার রেশন কার্ড গ্রাহকদের তালিকার সংশোধন করা হবে। আবার নতুন করে রেশন গ্রাহকের নাম রেজিস্ট্রি করা হবে। রেজিস্ট্রেশন হবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ভোটার তালিকার মতো রেশন কার্ড তালিকা থেকেও কি তাহলে বহু নাম বাদ যাবে? প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্রীয় তথ্য সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারত সরকার ৮০ কোটি মানুষকে রেশন দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার জন্য এবার রেশন কার্ড গ্রাহকদের নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সেই প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ নতুন তালিকা তৈরি হবে। অর্থাৎ দেশে মোট কত মানুষ রেশনের আওতায় আসছে, সেই তালিকার পূর্ণাঙ্গ সংশোধন চাইছে কেন্দ্র। মন্ত্রী বলেছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর ‘সার্থক রেশন প্রকল্প’ অনুমোদিত হয়েছে। ২৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে এই প্রকল্পে। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্প চালানো হবে। সরকারের লক্ষ্য হল, একজনও গরিব মানুষ যেন রেশন থেকে বাদ না পড়ে। আবার যাঁদের পাওয়ার কথা নয়, তেমন কতজন গ্রাহক রেশন পাচ্ছেন সেটাও চিহ্নিত করা হবে। অর্থাৎ এবার এসআইআরের ধাঁচেই রেশন কার্ড তালিকা থেকে বহু নাম বাদ যেতে চলেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাজ্যগুলিকে আর্থিক সাহায্য করা হবে। যাতে রাজ্যের খাদ্য সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলি থেকে নিয়মিত খাদ্যপণ্য রেশন দোকানে পৌঁছে যায়। এবং একইসঙ্গে একটি রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে খাদ্যপণ্যের যাতায়াতও মসৃণ হয়। এর ফলে খাদ্যের জোগানে কোনো সংকট হবে না। এই নয়া প্রকল্পে এআই মডিউল যুক্ত করার মাধ্যমে বছরে ২৮০ কোটি টাকা বাঁচানো যাবে বলে আশা করছে সরকার। এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রেশন ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি করা হবে। রেশন ডিলারদের বহুদিনের এই দাবি ছিল। অবশেষে কেন্দ্র সেই দাবি মেনে কমিশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। যদিও রেশন ডিলার সংগঠনগুলি এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয়।



