Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার হুগলির প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা সংসদকেও ‘অবৈধ’ ঘোষণা হাইকোর্টের

পূর্ব মেদিনীপুরের মতো এক্ষেত্রেও এক শিক্ষিকার বদলি সংক্রান্ত মামলায় এমনই রায় দিয়েছেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ

এবার হুগলির প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা সংসদকেও ‘অবৈধ’ ঘোষণা হাইকোর্টের
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পূর্ব মেদিনীপুরের পর এবার হুগলির জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা সংসদের (ডিপিএসসি) অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করল কলকাতা হাইকোর্ট। পূর্ব মেদিনীপুরের মতো এক্ষেত্রেও এক শিক্ষিকার বদলি সংক্রান্ত মামলায় এমনই রায় দিয়েছেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ। রায় প্রসঙ্গে ডিপিএসসির চেয়ারম্যান শিল্পা নন্দী বলেন, ‘বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’  

Advertisement

মামলাকারী শিক্ষিকা চন্দনা ভুঁই ১৯৯৩ সালে হুগলির সোনিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৪ সালে তিনি সামন্তখন্ড প্রথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা পদে নিয়োগ পান। তখন থেকে ওই স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবেই তিনি কর্মরত। তাঁর অভিযোগ, চলতি বছরের ১১ জুলাই তাঁকে একটি মেমো পাঠিয়ে শুনানিতে যোগদানের নির্দেশ দেন ডিপিএসসির চেয়ারম্যান। অভিযোগ, তিনি স্কুলেই এক পড়ুয়াকে মারধর করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করেন চন্দনাদেবী। শুনানিতে তিনি দাবি করেন, তাঁর সম্মানহানির জন্যই এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্টে পড়ুয়ার বাড়ির লোকজন তাঁকেই হেনস্তা করেছে। যে কারণে তিনি স্থানীয় থানাতে অভিযোগও দায়ের করেছেন। যাবতীয় বৃত্তান্ত শোনার পরও তাঁকে অন্য একটি স্কুলে বদলির নির্দেশ জারি করেন ডিপিএসসি’র চেয়ারম্যান। শুধু তাই নয়, প্রধান শিক্ষিকা পদ কেড়ে নিয়ে তাঁকে সাধারণ শিক্ষিকা হিসেবে বদলির নির্দেশ ধরানো হয়। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বেঞ্চে মামলাকারীর আইনজীবী উদয়শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের বয়স ৫৯। শীঘ্রই তিনি অবসর নেবেন। কোনও শিক্ষিককে বদলির ক্ষমতা রয়েছে ডিপিএসসি’র। কিন্তু এক্ষেত্রে আগের ডিপিএসসি’র সদস্যদের মেয়াদ শেষের পর তা পুনর্গঠন সংক্রান্ত কোনও গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। ফলে কার্যকরী কোনও ডিপিএসসি নেই। স্বভাবতই এহেন সংস্থার চেয়ারম্যানের জারি করা নির্দেশও অবৈধ। 
১৯৭৩ সালের পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা আইন অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় একটি করে ডিপিএসসি থাকার কথা। সাধারণত ২০-৩০ জন সদস্য নিয়ে একটি জেলার ডিপিএসসি গঠিত হয়। সেখানে চেয়ারম্যান নিয়োগ করে রাজ্য সরকার। সদস্য হিসেবে থাকেন জেলা স্কুল পরিদর্শক, জেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অফিসার, জেলা সমাজ শিক্ষা অফিসার, একজন করে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, তিনজন প্রাথমিক শিক্ষক, পুরসভাগুলি থেকে তিনজন কাউন্সিলার এবং সর্বাধিক ছ’জন বিধায়ক। সবার বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি ভরদ্বাজ রায়ে উল্লেখ করেন, ডিপিএসসি পুনর্গঠন সংক্রান্ত কোনও গেজেট বিজ্ঞপ্তি ছাড়া সেটির আইনি অস্তিত্ব নেই। এরপরই ওই বদলির নির্দেশ খারিজ করে দেন বিচারপতি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ