সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: সোনার দাম যতই আকাশ ছুঁক, শারদোৎসবের মঞ্চে এবার শিলিগুড়িতে সেই সোনাই হয়ে উঠতে চলেছে চমকের মূল আকর্ষণ। ঢাকের বাদ্যি, কাশফুলের দোলা আর আলোর রোশনাইয়ের সঙ্গে শিলিগুড়ির পুজোর মানচিত্রে এবার যুক্ত হতে চলেছে আরও এক ঝলমলে অধ্যায়। দেবী দুর্গার গায়ে উঠবে প্রায় ১০০ কেজি সোনার গয়না। এনজেপি সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো কমিটির এবারের ভাবনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে শুরু হয়েছে কৌতূহল। পুজো আসতে এখনও কিছুদিন বাকি, অথচ সেন্ট্রাল কলোনির নাম ঘুরছে মানুষের মুখে মুখে।
প্রতিবছরই নতুন থিম, অভিনব ভাবনা এবং মণ্ডপসজ্জার চমকে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে এই পুজো। কখনও মণ্ডপের কারুকাজ, কখনও প্রতিমার সাজ—চমক দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতে চায় না এনজেপি গেটবাজারের এই পুজো। এবার সেই চমক যেন একেবারে অন্য মাত্রায়। রেলওয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচিত পরিসর থেকে কিছুটা সরে এবার নতুন জায়গায় পুজোর আয়োজন। আর নতুন ঠিকানায় নতুন ভাবনা— সোনার অলঙ্কারে সেজে উঠবেন মা দুর্গা।
প্রায় ১০০ কেজি সোনার গয়নায় সজ্জিত দেবীকে এক ঝলক দেখতে যে মানুষের ঢল নামতে পারে, তা বুঝতে পারছেন উদ্যোক্তারাও। ফলে প্রতিমার সাজ যতটা আলোচনার, তার চেয়ে কম নয় নিরাপত্তার বিষয়টিও। মায়ের গায়ে থাকবে বিপুল মূল্যের অলঙ্কার। আর সেই অলঙ্কার সুরক্ষিত রাখা, দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা এবং মণ্ডপে নির্বিঘ্নে মানুষের চলাচল নিশ্চিত করা— সব মিলিয়ে এবার প্রশাসন ও পুজো কমিটির সামনে বড়ো দায়িত্ব।
ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সেন্ট্রাল কলোনির পুজোমণ্ডপ পরিদর্শন করে গিয়েছেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা। পুজো কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের যাতায়াত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়েছেন তিনি। বিপুল মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় পুজোর দিনগুলিতে নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে এখানে।
তবে সেন্ট্রাল কলোনির এবারের চমক শুধু সোনার ওজনের অঙ্কে নয়। উৎসবের আবহে দেবীকে কতটা আলাদা করে তুলে ধরা যায়, সেই ভাবনারও প্রতিফলন এই আয়োজনে। সোনার গয়নার ঝলকে যখন মায়ের মুখ আলোকিত হবে, তখন মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীদের চোখে ধরা পড়বে এক অন্যরকম দৃশ্য।
শহরের পুজোপ্রেমীদের কাছে তাই এবার সেন্ট্রাল কলোনির ডাক অন্যরকম। সোনার ঝলকে দেবী দুর্গার দর্শন, এই দৃশ্যের সাক্ষী হতে পুজোর দিনগুলিতে কত মানুষের পদধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে সেন্ট্রাল কলোনি, এখন সেই অপেক্ষাতেই উদ্যোক্তা থেকে প্রশাসন।