সুকান্ত বসু, কলকাতা: আর কয়েকদিন পর দুর্গাপুজো। এখনও সেই অর্থে কাউন্টডাউন শুরু না হলেও প্রস্তুতি, তোড়জোড় চলছে জোরকদমে। গত প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে দেখা গিয়েছে, কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ, বড়বাজার থেকে বেহালা—সর্বত্র হরেক থিমের ছড়াছড়ি। অভিনব সব ভাবনায় সাজিয়ে তোলা মণ্ডপে সেই ভাবনার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে প্রতিমা গড়া হয়েছে। এবার সেই ছবিটা কিছুটা হলেও আলাদা। কুমোরটুলির অলিগলি ঘুরে, মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে অন্তত তেমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, তাঁরা জানাচ্ছেন, এবার থিমের ঠাকুরের বরাত হাতেগোনা। এখনও পর্যন্ত কুমোরটুলিতে ২৫ থেকে ৩০টি থিমের ঠাকুরের বরাত এসেছে। এখনও যেহেতু মাস দু’য়েক বাকি পুজোকে, আরও অন্তত ৮-১০টি এমন প্রতিমার বরাত আসতে পারে বলে মনে করছেন শিল্পীরা।
কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সমিতির অন্যতম কর্তা বাবু পাল বলেন, ‘আসলে নানা সময় নানা রকম হিড়িক দেখা যায়। বারবার তার প্রমাণও মিলেছে। এবার থিমের ঠাকুরের বরাত খুব কম এসেছে। সেই তুলনায় সাবেকি এবং একচালার দুর্গা প্রতিমার বরাত বৃদ্ধি পেয়েছে।’ সূত্রের খবর, প্রতিমা তৈরির মাটি সংক্রান্ত জট কাটার পর থেকে এখনও পর্যন্ত কুমোরটুলিতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার দুর্গা প্রতিমার বরাত এসেছে। তার মধ্যে অধিকাংশই সাবেকি এবং একচালার। কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। কিছু কিছু প্রতিমার প্রাথমিক কাজ শেষ হওয়ার পর তা গোডাউনে রেখে দেওয়া হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও প্রতিমার কাঠামো বাঁধার কাজ শেষ হওয়ার পর বিচালি এবং মাটির প্রলেপ দেওয়া শুরু হয়েছে।
কুমোরটুলি স্ট্রিটের প্রতিমা শিল্পী রাজা পাল বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত ১১টি প্রতিমার বরাত পেয়েছি। তার মধ্যে ৮টি একচালার। মূলত বাড়ির পুজো সেগুলি। এসব প্রতিমা যাবে কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলিতে। বাড়ির লোকজন কাঠামো পুজো করে সেটি আমাদের হাতে দিয়ে গিয়েছেন। সেই কাঠামোর উপরই রূপ পাচ্ছে প্রতিমা।’