Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

এবার আসছে ‘এক দেশ, এক আভা কার্ড’, থাকবে নাগরিকের চিকিৎসার যাবতীয় তথ্য

চিকিৎসার কাগজপত্র যত্ন করে ফাইলে রাখতে রাখতে হয়রান বারাকপুরের তমোজিৎ সমাদ্দার

এবার আসছে ‘এক দেশ, এক আভা কার্ড’,  থাকবে নাগরিকের চিকিৎসার যাবতীয় তথ্য
  • ১১ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: চিকিৎসার কাগজপত্র যত্ন করে ফাইলে রাখতে রাখতে হয়রান বারাকপুরের তমোজিৎ সমাদ্দার। এত কাগজপত্র ফাইলের মধ্যে রাখাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আরও একটি ফাইল কিনেও শান্তি নেই! আজ এন আর এস মেডিকেল কলেজে অপারেশনের পর ফলো আপ। কিছু টেস্টও আছে। কিছু জেরক্সও করতে হবে। এই সমস্যা শুধু তমোজিৎবাবুর নয়, কমবেশি প্রত্যেকের। মেডিকেলের জন্য কত ফাইল করবেন! 

Advertisement

বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যাপ এনেছে। চিকিৎসার তথ্য সেখানে রাখা থাকে। কিন্তু প্রাইভেট-সরকারি করতে থাকলে গুলিয়ে যায়। তাছাড়া সরকারি-বেসরকারি দুই জায়গায় কোনো রোগীর ইউনিক কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। প্রাইভেটে আছে রোগীর নির্দিষ্ট এমআরএন বা মেডিকেল রেকর্ড নম্বর। কিন্তু সরকারি জায়গায়? 
সমাধান একটাই। এমন কোনো নম্বর বা কার্ড, যেখানে যে কোনো নাগরিকের চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য গচ্ছিত থাকবে। বহু বছর আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় এমন পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। ক্ষমতায় আসার পর দেশজুড়ে ‘আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন’ চালু করে তেমনই এক প্রকল্প ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এখন পশ্চিমবঙ্গেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। এবার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে শীঘ্রই। এমনই জানা গিয়েছে দপ্তর সূত্রে। 
এই প্রকল্পে প্রত্যেক রাজ্যবাসীর একটি করে ‘আয়ুষ্মান ভারত হেলথ অ্যাকাউন্ট’ বা ‘আভা’ নম্বর থাকবে। অ্যাকাউন্টে তাঁর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য থাকবে। সেই নম্বরটি কার্ড আকারেও ছাপানো সম্ভব। সরকারি হোক বা প্রাইভেট, যে কোনো হাসপাতালে দেখালেই রোগীর যাবতীয় হেলথ রেকর্ড বেরিয়ে আসবে। 
এছাড়াও এই প্রকল্পে আরও দু’টি নম্বর থাকছে। একটি হল ‘হেলথ ফেসিলিটি রেজিস্ট্রি’ বা ‘এইচএফআর নম্বর’। এটি পাবে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতাল। অন্যটি হল ‘হেলথ প্রফেশনাল রেজিস্ট্রি’ বা ‘এইচপিআর নম্বর’। এই নম্বর পাবেন রাজ্যের প্রত্যেক চিকিৎসক ও নার্সিং কর্মী। 
দপ্তর সূত্রে খবর, বিদায়ী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প কার্যকর করেনি। কিন্তু আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনে ‘না’ বলেনি। যদিও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে প্রকল্পটি ডিজিটালি এগিয়ে নিয়ে গেলেও হাতেকলমে প্রয়োগ করার সাহস দেখাননি স্বাস্থ্যকর্তারা। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই সেই কাজ চালুর করবার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ এসেছে বলে অফিসার মহলের খবর। যতটুকু জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্যদপ্তর ৫ কোটি রোগীর ‘আভা’ অ্যাকাউন্ট বানিয়েছে। জাতীয় পোর্টালের সেই তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারও জানে। যখনই কোনো রোগীর আউটডোর টিকিট হয়েছে, তখন তাঁর ‘আভা’ নম্বর তৈরি হয়েছে। এছাড়া ইনডোর, রোগ বা রক্তপরীক্ষার সময়ের তথ্য কাজে লাগিয়ে বহু রোগীর ‘আভা’ নম্বর প্রস্তুত হয়েছে। সবক্ষেত্রে সাহায্য করেছে রোগীর আধার নম্বর। এছাড়া যে কেউ নিজের আধার নম্বর বা ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়েও ‘আভা’ অ্যাকাউন্ট করতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্য আধার সেন্টারে যেতে হবে। ‘আভা’ ছাড়াও রাজ্যের যাবতীয় সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের (প্রায় ১১ হাজার) এইচএফআর নম্বরও তৈরি। তবে প্রাইভেট  ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট বা প্রাইভেট হাসপাতাল, ল্যাব, ডায়গনস্টিক সেন্টারের (প্রায় ১০ হাজার) নম্বর পাওয়া বাকি। বাকি রয়েছে রাজ্যের সমস্ত চিকিৎসক ও নার্সদের এইচপিআর নম্বর তৈরির কাজ। সে কাজ এগিয়েছে সামান্যই। এবার তাতেও গতি আসছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ