Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবার পুজোয় কুর্তি-পাঞ্জাবিও মসলিনের

ছোট্ট একটা আংটির ভিতর দিয়ে গলে যায় আস্ত একটা শাড়ি! আম বাঙালি ছোটবেলা থেকেই শুনে আসে সেই গল্প। মিহি, একেবারে সুক্ষ্ম সেই সুতির বুনন কিন্তু নিছক কোনও কাপড় নয়, তামাম বাংলার ঐতিহ্য—মসলিন! ব্রিটিশ আমলেই হারিয়ে গিয়েছিল যে বস্ত্রশিল্প, সেটাই এবার পুজোর নয়া ট্রেন্ডিং ফ্যাশন।

এবার পুজোয় কুর্তি-পাঞ্জাবিও মসলিনের
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

অভিষেক পাল, বহরমপুর: ছোট্ট একটা আংটির ভিতর দিয়ে গলে যায় আস্ত একটা শাড়ি! আম বাঙালি ছোটবেলা থেকেই শুনে আসে সেই গল্প। মিহি, একেবারে সুক্ষ্ম সেই সুতির বুনন কিন্তু নিছক কোনও কাপড় নয়, তামাম বাংলার ঐতিহ্য—মসলিন! ব্রিটিশ আমলেই হারিয়ে গিয়েছিল যে বস্ত্রশিল্প, সেটাই এবার পুজোর নয়া ট্রেন্ডিং ফ্যাশন। পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে জেনারেশন ওয়াইয়ের কাছে ‘হট ফেভারিট’। সৌজন্যে খাদি বোর্ড। মহিলাদের পছন্দের প্রথম তালিকাতেই রয়েছে পুনর্জন্ম হওয়া এই সুক্ষ্ম কাপড়ের রেডিমেড পোশাক। আলমারি ভরছে মসলিনের কাপড়ে তৈরি হ্যান্ডপ্রিন্ট বা ব্লকপ্রিন্ট করা সালোয়ার কামিজ কিংবা কুর্তি, স্কার্ট, পালাজো ও টপের সম্ভারে। সঙ্গে রয়েছে কো-অর্ডস, স্যুট, হল্টার, শ্রাগের মতো হাল ফ্যাশনের পোশাক। পুরুষদের বিভাগে এবার পুজোর বাজার মাত করছে মসলিনের পাঞ্জাবি, কুর্তি এবং জামা। 

Advertisement

ইতিহাস বলছে, মসলিন উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত অঞ্চল ছিল ঢাকা, মুর্শিদাবাদ, শান্তিপুর, মালদা, এবং হুগলি। দুশো বছর আগে ঢাকাই মসলিন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে দামি কাপড়। বর্তমানে মুর্শিদাবাদে এই শিল্পের হৃতগৌরব ফিরে এসেছে। নবগ্রামের পাঁচগ্রামের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন গত কয়েক বছর ধরে মসলিন নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর কথায়, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতেই কারখানায় মসলিনের কাজ করছি। তবে এবছর সবচেয়ে বেশি চাহিদা। মসলিনের কাপড়ে মেয়েদের টপ তৈরি করছি। সেইসঙ্গে কুর্তি ও বেবিসুট... অনেক রকমের ডিজাইন রয়েছে। বাজারে এসবের ভালো চাহিদা রয়েছে। ছেলেদের শার্ট, পাঞ্জাবি, কুর্তির চাহিদাও খুব।’ মসলিনের কাপড়ের মানের উপর দাম নির্ভর করে। সবথেকে ভালো মসলিনের শার্টের দাম প্রায় ১২০০টাকা। এক একটি মসলিন শার্ট তৈরি করতে সর্বনিম্ন ৩২০-৩৫০টাকা খরচ পড়ে। 
এবার শারদোৎসবে মসলিনের পোশাকের সম্ভার যে মানুষের নজর কাড়ছে, তা নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের প্রকল্প আধিকারিক (গবেষণা ও প্রশিক্ষণ) দেবর্ষি রায়ও। তিনি বলেন, ‘কয়েক মাস আগেই উত্তর কলকাতায় একটি মেলায় সাতদিনের জন্য মসলিনের কিছু সামগ্রী পাঠিয়েছিলাম। সবই ফ্যাশনেবল ড্রেস, যার মধ্যে হ্যান্ডপ্রিন্ট-ব্লকপ্রিন্ট ছিল। মসলিনের কাপড়ের উপর আলাদা সুতোর নকশা, সেইসঙ্গে ছেলেদের পাঞ্জাবি ও কুর্তা। দারুণ সাড়া পাওয়া গিয়েছিল।’ পুজোর আগে মানুষের চাহিদা বুঝে শিল্পীদের দিয়ে মসলিনের বিভিন্ন পোশাক বানানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন দেবর্ষি। সেগুলির বিক্রি নিয়ে উচ্ছ্বসিত দৌলতাবাদের কাপড়ের ব্যবসায়ী প্রণব মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘এবার অনেক মসলিন থান বিক্রি করছি। এ কাপড় যত পাতলা হয়, তত দাম বেশি। প্রতি মিটার ৩০০ কাউন্ট মসলিনের দাম ৫৫০-৬০০ টাকা। ২০০ কাউন্ট মসলিনের দাম ১০০ টাকা কম। এই মসলিনে সালোয়ার কামিজ এবং মেয়েদের রেডিমেড পোশাক ভালো তৈরি হচ্ছে।’
পুজোর বাজার করতে আসা তিয়াশা দত্তর সাফ কথা, প্রতি বছর যেভাবে গরম বাড়ছে তাতে দাম বেশি হলেও মসলিনের জবাব নেই!

সম্পর্কিত সংবাদ