


তেহরান: ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং বসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকে নিকেশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার এই দাবি করেছেন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ। তিনি বলেন, সোমবার রাতে তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে বায়ুসেনার হামলায় প্রাণ গিয়েছে তাঁদের। কাটজের কথায়, ‘ইরানি প্রশাসনের সর্বোচ্চ নেতাদের খতম করা হয়েছে। তাদের ক্ষমতা এখন সীমিত।’ তাৎপর্যপূর্ণ ব্যপার হল, রাত পর্যন্ত ইজরায়েলের এই দাবি সমর্থন বা খারিজ করেনি ইরান। যদিও এরমধ্যেই সামনে এসেছে লারিজানির হাতে লেখা একটি চিঠি। গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ দিকের বন্দর শহর গল থেকে মাত্র ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ইরানি রণতরীটিকে ডুবিয়ে দেয় আমেরিকা। তাতে মৃত্যু হয় ইরানের ৮৭ জন নৌসেনা কর্মীর। এঁদের শ্রদ্ধা জানিয়েই চিঠিটি লিখেছেন লারিজানি। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সেনার পক্ষ থেকে সেই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। এরপরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি লারিজানির বেঁচে থাকার প্রমাণ হিসেবেই তা প্রকাশ করা হল?
লারিজানির মৃত্যুর খবর সত্য হলে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের পর এটাই ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষতি। ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনেইকে খতমের মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে আমেরিকা-ইজরায়েল। এবার যুদ্ধের ১৮তম দিনে লারিজানির মৃত্যু নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। স্থানীয় সূত্রে খবর, লারিজানিকে শেষ বার দেখা গিয়েছে শুক্রবার। আল কুদোস ডে উপলক্ষ্যে তেহরানে প্যালেস্তানিয়দের সমর্থনে র্যালিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেই র্যালিতেই ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য লরিজানি প্রথম থেকেই প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছেন। পার্লামেন্টের স্পিকার থেকে প্রয়াত খামেনেইয়ের পরামর্শদাতার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরমাণু অস্ত্র নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে দর কষাকষির সময় ইরানের হয়ে প্রধান দায়িত্ব পালন করেছিলেন লারিজানি। দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনের দায়িত্বে থাকা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিওরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারির দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।
এদিন বসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকে খুন করে দ্বিতীয় বড় ধাক্কার দাবি করেছে ইজরায়েল। ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরসিজি) অধীনস্ত ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল এই বসিজ বাহিনী। গত ছ’বছর ধরে বসিজের নেতৃত্বে ছিলেন সোলেইমানি। প্রশাসনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যখন ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, তখন কঠোর হাতে তা দমন করে সোলেইমানির বসিজ বাহিনী। সেই অপরাধে সোলেইমানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
তবে লারিজানি বা সোলেইমানির মৃত্যু হলেও কি ইরানের মনোবল কি ভাঙা যাবে? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ইরানের শাসন ব্যবস্থাই বহুস্তরীয়। যে কোনো কর্তাব্যক্তি বা নেতার বিকল্প সব সময় তৈরি থাকে। তাই এভাবে ইরানের শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব নয়।