নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লক্ষ্মীবারে লক্ষ্মীলাভ রাজ্যের দুর্গাপুজো কমিটিগুলির। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন, এ বছর প্রত্যেকটি দুর্গাপুজো কমিটি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা পাবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লক্ষ্মীবারে লক্ষ্মীলাভ রাজ্যের দুর্গাপুজো কমিটিগুলির। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন, এ বছর প্রত্যেকটি দুর্গাপুজো কমিটি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা পাবে।
গত বছর কমিটিগুলি পেয়েছিল ৮৫ হাজার টাকা। এবার এক লপ্তে ২৫ হাজার অনুদান বৃদ্ধি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দিতে সরকারের খরচ হবে ৪৯৫ কোটি টাকা। কলকাতার তিন হাজার মিলিয়ে রাজ্যে ৪৫ হাজার দুর্গাপুজো হয়। এবছর ২, ৩ এবং ৪ অক্টোবর বিসর্জন। কার্নিভালের দিন ঠিক হয়েছে ৫ অক্টোবর।
এবছর ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়া। ষষ্ঠী পড়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর। দুর্গাপুজোর আয়োজন নিয়ে বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি ও সমন্বয় বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। গত বছর বৈঠকে মমতা জানিয়েছিলেন, আগামী বছর এক লক্ষ করে টাকা পাবে কমিটিগুলি। কিন্তু এদিন বৈঠকের মধ্যে উদ্যোক্তাদের থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, কত টাকা এবার দেওয়া যেতে পারে? তখন উদ্যোক্তাদের মধ্যে থেকে আওয়াজ ওঠে, ৮৫ হাজার বৃদ্ধি পেয়ে হোক ৯০ হাজার টাকা। কেউ আবার বলেন, এক লক্ষ হোক। তা শোনার পর সকলকে একপ্রকার চমকে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘এবার দেওয়া হবে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।’ তা শুনে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামজুড়ে আওয়াজ ওঠে, ‘জয় বাংলা।’ প্রত্যুত্তরে মমতা বলেন, ‘জয় বাংলা হল অন্তরের ভাষা।’
পুজো কমিটিগুলিকে আরও কিছু সুবিধা দেওয়ার কথাও এদিন ঘোষণা করেন মমতা। বিদ্যুতের বিলের উপর ৭৫ শংতাশ ছাড় বৃদ্ধি পেয়ে হল ৮০ শতাংশ। এছাড়া দমকল সহ অন্যান্য সরকারি অনুমতি মিলবে বিনামূল্যে। ‘আসান’ নামের পোর্টালে এক জানলা ব্যবস্থায় সব অনুমতি সহজে মিলবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে কেউ কেউ আবার আদালতে চলে যান। কিন্তু এই উৎসবের সঙ্গে বহু মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে।’
সাম্প্রতিক সময় বাংলা ভাষাভাষীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। দুর্গোৎসবের আবহে এ নিয়ে বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, যাঁরা অত্যাচারিত ও নিপীড়িত হয়ে জেলায় ফিরে আসছেন, তাঁদের প্রশাসন ও পুজো কমিটিগুলি নতুন জামাকাপড় দেবে। আমরা অত্যাচার পছন্দ করি না। আমরা কারও উপর তা করব না। কেউ খারাপ কাজ করলে আমরা যেন একই কাজ না করি। সহনশীলতা আমাদের ঐতিহ্য। এটাই আমাদের সংস্কৃতি।