এবার বোলপুরের নিচুপট্টিতে ‘কেষ্ট কালী’পুজোর পরিচালনায় বিজেপি
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: মাত্র ন’বছর বয়সে নিজের হাতে কালীপ্রতিমা গড়ে পুজোর সূচনা করেছিলেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। সেই থেকেই বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়িপুকুর সম্মিলনী ক্লাবের কালীপুজো এলাকায় ‘কেষ্ট কালী’ নামে পরিচিত। একসময় ৬০ফুটের কাছাকাছি উচ্চতার প্রতিমা, একাধিক তোরণ এবং জাঁকজমকপূর্ণ মণ্ডপসজ্জায় নজর কাড়ত এই পুজো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে পরিস্থিতি। এবার রাজ্যে পালাবদলের পর সেই পুজোর আয়োজনে যুক্ত হচ্ছেন বিজেপি নেতারা। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পারিবারিক দুর্গাপুজো হওয়ার কারণে কালীপুজো করার রীতি ছিল না। কিন্তু ছোট থেকেই কালীপুজোর প্রতি আগ্রহ ছিল অনুব্রতবাবুর। মাত্র ন’বছর বয়সে নিজের হাতে প্রতিমা তৈরি করে পুজো শুরু করেন তিনি। পরিবারের আপত্তিও তাঁকে আটকাতে পারেনি। সেই ছোট্ট উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে বাড়িপুকুরের অন্যতম পরিচিত কালীপুজোয় পরিণত হয়। প্রতি বছর পুজোর আয়োজনে নজর রাখতেন অনুব্রত। পরে পুজোর দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় স্থানীয় ক্লাব সদস্যদের হাতে। ২০২১ সালেও ধুমধাম করে পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন অনুব্রত। তারপর অনুব্রতবাবুর অনুপস্থিতিতে পুজোর আয়োজনে ভাটা পড়ে। ২০২৩ সালে তৎকালীন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ পুজোর দায়িত্বভার নিজের কাঁধে তুলে নেন। সেবারও বড় আকারে আয়োজন করা হয়েছিল। গত কয়েক বছরে যেখানে প্রতিমার উচ্চতা ৪৫ থেকে ৬০ ফুট পর্যন্ত হয়েছে। তারপর আবার কমেছে উচ্চতা। 
তবে এবার পরিস্থিতি বদলেছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই পুজোর আয়োজনে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব যুক্ত হয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র সুমিত মণ্ডল এই পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বলেন, এতদিন কয়েকজন নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত পরিচিতির জন্য এই পুজো পরিচালনা করেছেন। এটি কোনো ব্যক্তি বিশেষের পুজো নয়, বাড়িপুকুর সম্মিলনী ক্লাবের পুজো। এলাকার মানুষকে একত্রিত করেই এবার পুজোর আয়োজন করা হবে। পুজোকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রসাদের ব্যবস্থাও থাকবে।
জানা গিয়েছে, এবার কৃষ্ণনগরের শিল্পীদের হাতে তৈরি ১৫ফুটের প্রতিমাতেই হবে মাতৃ আরাধনা। শুরু হয়েছে মণ্ডপসজ্জার কাজ।  পুজোর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলের। যে পুজোর সঙ্গে কয়েক দশক ধরে জড়িয়ে রয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের নাম, সেই পুজোর দায়িত্বে বিজেপির যুক্ত হওয়া নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এব্যাপারে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল বলেন, এই পুজোটি আমি শুরু করেছিলাম। পরে ক্লাবের হাতে দিয়ে দিই। এবার কী করবে, তা আমি বলতে পারব না।