


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার শুরু হওয়া রথযাত্রাই হতে চলেছে বিজেপির শেষ যাত্রা। সোমবার এই ভাষাতেই বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণে ধার দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই দিনে রাজ্যে অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, নীতিন নবীনের মতো কেন্দ্রীয় নেতা। তবে এই সবের মোকাবিলায় তিনি একাই যে যথেষ্ট, তার প্রমাণ দিতে রাজনৈতিক সংঘর্ষকে সপ্তমে নিয়ে গেলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর হয়রানি, বিপন্ন গণতন্ত্র, রাজ্যকে বঞ্চনা—এমন গুরুতর অভিযোগের তিরে গেরুয়া বাহিনীকে বিদ্ধ করে তাঁর হুংকার, ‘এই রথযাত্রাই হবে বিজেপির বিনাশ যাত্রা।’
এসআইআর পর্বে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হয়ে চলেছে বাংলার মানুষ। নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে প্রাণ গিয়েছে ১৭০’এরও বেশি বঙ্গবাসীর। নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে অনেকের। সোমবার নেতাজি ইনডোরে দোলযাত্রা ও হোলির মিলন উৎসবের মঞ্চ থেকে এদিন তাঁদেরই ৬১ জনের পরিবারের হাতে হোমগার্ডের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন মমতা। এবং এই মঞ্চ থেকেই সরাসরি তোপ দেগেছেন বিজেপিকে। প্রত্যয়ী মমতা বুঝিয়ে দিলেন, মোদি সরকার এবং জ্ঞানেশ কুমারের নির্বাচন কমিশন যতই চেষ্টা করুক না কেন, বাংলা দখল করতে পারবে না। তাঁর আক্রমণ, ‘ওরা পক্ষপাতদুষ্ট। কারসাজি করে ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। দিল্লির নির্দেশেই কমিশন এবং তাদের নিযুক্ত মাইক্রো অবজার্ভাররা যোগ্য ভোটারদের নাম কেটে দিচ্ছে। আর এসব করেও ফাইভ স্টার গাড়ি নিয়ে রথযাত্রা করছে! যতই করো, বাংলার মানুষের সমর্থন তোমরা পাবে না।’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁর কটাক্ষ, ‘একজন ভ্যানিশ কুমার আছেন। তিনি মানুষের নাম ভ্যানিশ করে দিচ্ছেন। আমি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কথা বলছি না। আমি সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করছি। তাঁদের কোনো দোষ নেই। তাঁরা সমস্ত নথি জমা দিয়েছেন। তাও নাম বাদ দিচ্ছে!’ মমতার আশঙ্কা, কেন্দ্র ও কমিশনের চক্রান্তে বাংলার ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে। খসড়া তালিকায় বাদ যাওয়া ৫৮ লক্ষ, প্রথম চূড়ান্ত তালিকায় আরও ৬ লক্ষ এবং এখন ‘বিচারাধীন’ ৬০ লক্ষ। বিজেপি যেনতেন ১ কোটির উপর বাদের সংখ্যাটা নিয়ে যেতে চাইছে বলে উদ্বেগ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর দাবি, এটা তিনি হতে দেবেন না। মমতা বলেন, ‘আমাকে চিরকাল লড়াই করে বাঁচতে হয়েছে। লড়াই চালিয়ে যাব। বাংলার মানুষও লড়বে। কিন্তু মাথা নত করবে না।’