সুকান্ত বেরা, কলকাতা: আইপিএল বিজ্ঞাপনের টিজারে মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে দেখা যাচ্ছে রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসনকে। কথায় কথায় ধোনির উদ্দেশে সঞ্জু বলছেন, ‘আইপিএল থেকে আপনি চলে যাওয়ার আগে...।’ তারপর আর কিছু শোনা যায়নি। তবে এই ভিডিও মাহির অবসরের জল্পনায় নতুন করে গতি দিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, চেন্নাই সুপার কিংসের প্র্যাকটিসে ধোনি যে টি-শার্ট পরেছিলেন, তাতে সাংকেতিক ভাষায় একটি বাক্য লেখা ছিল। যার অর্থ দাঁড়ায়, ‘শেষ বারের মতো।’
সবই যেন ধোনির অবসরের ইঙ্গিত। তবে তিনি যে কখন কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা তাঁর বাঁ হাতের তালুও টের পায় না। কলকাতার মেয়েকে বিয়ের খবরও ছিল বড় চমক। তাই দস্তানা জোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেবেন আচম্বিতেই। আসলে দীর্ঘ ১৮ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করা তো সহজ ব্যাপার নয়। এক-দু’বছর অন্য দলে খেলতে হলেও আপাদমস্তক তিনি ‘ইওলো আর্মি’। রাঁচি তাঁর জন্মভূমি হলেও চেন্নাই তাঁকে আপন করে নিয়েছে কালের নিয়মে। সমর্থকদের আদুরে ‘থালা’, যিনি সবার ধোনি।
২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এমএসডি। ক্রিকেট বলতে তাঁর কাছে রয়ে গিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসের সুখস্মৃতি এবং হলুদ জার্সি। টুর্নামেন্ট এলেই ধোনির অবসর নিয়ে চর্চা শুরু হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ২০২৩ সালে অনেকেই ভেবেছিলেন, খেতাব জয়ের মঞ্চেই ক্রিকেটকে পাকাপাকিভাবে আলবিদা জানাবেন। কিন্তু জল্পনায় জল ঢেলে পরের মরশুমে অর্থাৎ চব্বিশেও হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন মাহি। পঁচিশেও নামবেন। কিন্তু আর কত দিন?
দেওয়াল লিখনটা নিশ্চয় পড়তে পারছেন ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক। তাঁর নতুন করে কিছু পাওয়ার নেই। ট্রফি ক্যাবিনেটে পাঁচটা আইপিএল, দুটো বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সহ আরও কত কী। তবুও শরীর না চাইলেও মনের জোরে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার লাইনের মতো ‘যেতে পারি কিন্তু কেন যাব?’। অতীতকে আঁকড়ে বর্তমানের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্রমাগত প্রয়াস। দেখতে দেখতে ৪৩ বসন্ত পার করে ফেলেছেন। বয়সের ছাপ পড়ছে পারফরম্যান্সে। সুযোগ বুঝে চোট থাবা বসাচ্ছে শরীরে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে লড়ে যাচ্ছেন। কত রান করলেন, বড় ব্যাপার নয়। তাঁর উপস্থিতি দলকে উজ্জীবিত করে, ত্রাসের সঞ্চার ঘটায় বিপক্ষ শিবিরে। কঠিন সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে মাহির জুড়ি মেলা ভার। সেই কারণেই তো সিএসকে কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছাড়তে নারাজ। টিম ম্যানেজমেন্টের অনুরোধ তিনি ফেলতে পারেননি। বোর্ডের নিয়মে পাঁচ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকায় এবারের আইপিএলে মাহি খেলবেন আনক্যাপড হিসেবে, ৪ কোটির বিনিময়ে। আইকন ক্রিকেটার হিসেবে যাত্রা শুরু, শেষে কিনা আনক্যাপড! মাহি বলছেন, ‘যতদিনই খেলি, ছোটবেলার মতো উপভোগ করতে চাই।’
কালের নিয়মেই থামতে হয় সকলকে। ধোনিও থামবেন আজ না হলে কাল। তবুও তিনি হলুদ জার্সিতে মাঠে নামবেন আরও একটা ট্রফি জেতার তাগিদে, দলকে নিরাপদ হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে। অবসর জল্পনার মধ্যেও ভক্তরা গ্যালারিতে সমস্বরে ফের চিৎকার করবে, ‘মাহি মার রহা হ্যায়...।’