Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লিফটের গেট তালাবন্ধ থাকার জেরেই এই ভয়ংকর ঘটনা, উঠে আসছে তদন্তে

আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কালিন্দীর তরতাজা যুবক অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়াবহ মৃত্যুর কারণ ঠিক কী? কার গাফিলতি?

লিফটের গেট তালাবন্ধ থাকার জেরেই এই ভয়ংকর ঘটনা, উঠে আসছে তদন্তে
  • ২২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কালিন্দীর তরতাজা যুবক অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়াবহ মৃত্যুর কারণ ঠিক কী? কার গাফিলতি? লিফটম্যান, নিরাপত্তারক্ষী, সুপারভাইজার, পূর্তদপ্তরের মেইনটেনেন্সের? হাসপাতাল কর্তাদের? স্বাস্থ্যদপ্তরের নীতির? হাসপাতালের গা-ছাড়া মনোভাবের? ঠিক কার বা কাদের? তারই তদন্ত চলছে। ৫ জন গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসছে, লিফটের যান্ত্রিক বিভ্রাটই শুধু নয়, এই মৃত্যুর অন্যতম কারণ তালাবন্ধ গেটটিও। এই কারণে লিফটটি নীচে নেমে খুলে যাওয়ার পরও বেরতে পারেননি অরূপ, তাঁর স্ত্রী সোনালি এবং তাদের চার বছরে ছেলে। গেট আর লিফটের মাঝখানে ১৮ ইঞ্চি জায়গায় দাঁড়িয়েছিলেন। লিফট কোনো কারণে নীচে নেমে খারাপ হয়ে গেলে সেখানে থাকা মানুষজন গেট তালাবন্ধ থাকলে কীভাবে বেরবেন? সেখানেই তো তাঁদের প্যা঩নিক অ্যাটাক হয়ে যেতে পারে! এই সাধারণ প্রশ্নটি কি কারও মাথায় আসেনি? আর কেনই বা লিফট থেকে বেসমেন্টে বেরনোর গেটে তালা দেওয়া থাকল? হাসপাতাল সূত্রে খবর, তালা দেওয়ার কারণ ১০ কোটির একটি যন্ত্র। নাম লিনিয়র অ্যাক্সিলারেটর (লাইন্যাক)। ক্যান্সার চিকিৎসার এই মহার্ঘ মেশিনটি রাখা আছে বেসমেন্টে। সেটির যন্ত্রপাতি যাতে চুরি না যায় অথবা কেউ কোনো ক্ষতি করতে না পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই গেটে তালা দেওয়া ছিল। হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডাঃ সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, লাইন্যাক থাকার কারণে সিকিউরিটির জন্য ওখানে তালা দেওয়া ছিল। কারণ, শুধু চুরি- ছিনতাই নয়, মেশিনে আগুন লাগা বা কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে অন্যরকম বিপদের আশঙ্কা আছে। 

Advertisement

আর জি করের কর্মীরাও শনিবার জানান, বেসমেন্টে লাইন্যাক আ঩ছে। রোগীদের চিকিৎসাও চলে সেখানে। বিকেল ৪টের পর থেকে লিফটের বাইরের গেটে তালা পড়ে যায়। আবার খোলে আউটডোরের সময়, অর্থাৎ সকাল ৯টা নাগাদ। এখানেই প্রশ্ন, সেই তালার চাবি থাকে কার কাছে? ডুপ্লিকেট চাবিই বা থাকে কার জিম্মায়? জানা গিয়েছে, চাবি থাকে হাসপাতালে পূর্তদপ্তরের অফিসে। থাকে সুপারভাইজারের কাছেও। কিন্তু কাকভোরে কেউ লিফটে আটকে বিপদে পড়লে জরুরি ভিত্তিতে কী করা হবে, সেই পরিস্থিতির কথা সম্ভবত কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি। আটকে পড়ে অরূপের পরিবার ‘হেল্প, হেল্প’ করে আপ্রাণ চিৎকার করলেও চাবি খোলার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি। যদি পাওয়া যেত, এই পরিণতি হওয়ার অনেক আগেই বেরিয়ে আসত সকলে। অকালে চলে যেতে হত না কালিন্দী জ’পুরের সকলের প্রিয় ‘বুচু’-কে।  গেট বন্ধ থাকায় এই ১৮ ইঞ্চি অংশেই দাঁড়িয়েছিলেন অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার পরিবার।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ