Bartaman Logo
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিকশিত ভারত ২০৪৭’এর জন্য এই জিডিপি যথেষ্ট নয়, বিস্ফোরক যোজনা কমিশনের প্রাক্তন ডেপুটি চেয়ারম্যান

প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন অর্থনৈতিক উপদেষ্টার পর এবার মন্টেক সিং আলুয়ালিয়া। তাঁর পরিচয় শুধু বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ নয়, অধুনা বিলুপ্ত যোজনা কমিশনের প্রাক্তন ডেপুটি চেয়ারম্যানও।

বিকশিত ভারত ২০৪৭’এর জন্য এই জিডিপি যথেষ্ট নয়, বিস্ফোরক যোজনা কমিশনের প্রাক্তন ডেপুটি চেয়ারম্যান
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন অর্থনৈতিক উপদেষ্টার পর এবার মন্টেক সিং আলুয়ালিয়া। তাঁর পরিচয় শুধু বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ নয়, অধুনা বিলুপ্ত যোজনা কমিশনের প্রাক্তন ডেপুটি চেয়ারম্যানও। বিস্ফোরণ ঘটল তাঁর মন্তব্যেও। আর নিশানায়? জিডিপির অঙ্ক। যা নিয়ে ইতিমধ্যে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে দেশজুড়ে। প্রশ্ন একটাই—এই পরিসংখ্যান আদৌ কতটা সঠিক? মন্টেক সিং অবশ্য সরাসরি এই ‘অঙ্ক’কে মিথ্যাচার বলে উড়িয়ে দেননি। বরং সুকৌশলে তাঁর মন্তব্য, ‘৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির হার ঠিক আছে। কিন্তু তা বিকশিত ভারত ২০৪৭’এর জন্য মোটেই যথেষ্ট নয়।’ 

Advertisement

সরকার জানিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ। তা নিয়ে দিকে দিকে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রচারও। কিন্তু তাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে বিতর্ক। সরকারের দেওয়া এই পরিসংখ্যান নিয়েই বিতর্ক তুঙ্গে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই পরিসংখ্যান জল মেশানো। নমিনাল জিডিপি ১০.৩ শতাংশ বাড়লেও মূল্যবৃদ্ধির হিসাবে গরমিলের কারণে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি ৭.৮ শতাংশ দেখানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের আয় ও সঞ্চয়ের সঙ্গে এই পরিসংখ্যান পুরোপুরি খাপ খাচ্ছে না। এই বিতর্কের মাঝেই কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন মন্টেক সিং আলুওয়ালিয়া। টেনে এনেছেন ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যপূরণের ইস্যুকে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বৃদ্ধির হার অনেকটা বাড়াতে হবে। দুই অঙ্কের বৃদ্ধির হার অর্জন করতে হবে। কোনো একটি বা দু’টি বিচ্ছিন্ন ত্রৈমাসিকে নয়, এই বৃদ্ধির হার হতে হবে নিরবচ্ছিন্ন। 
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের পরই এক সময় অর্থনীতির সেক্টরে উচ্চারিত হত মন্টেক সিংয়ের নাম। রাজনীতির ধারকাছ দিয়ে তিনি যাননি ঠিকই, কিন্তু উসকে দিয়েছেন তেমনই বিতর্ক। কারণ, তাঁর বক্তব্যের প্রধান অংশ হিসাবে উঠে আসা ‘বিকশিত ভারত’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বছর দুয়েক হল এই স্লোগানেই চলে গিয়েছেন। এবং তাঁর লক্ষ্য ২০৪৭। ওই বছর দেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তির ১০০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতকে উচ্চ আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে মোদি সরকার। অন্তত প্রচার সেটাই। বিরোধীদের কটাক্ষ, একে একে সময়সীমা ফেল করার পর একেবারে ২০৪৭’এ নিয়ে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিকশিত ভারতের সেই ‘স্বপ্ন’ও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন মন্টেক।
সম্প্রতি একটি আলোচনা চক্রে এই নিয়ে মন্টেকের পাশাপাশি অংশ নেন অর্থনীতিবিদ সুরজিৎ ভাল্লা। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের ভারতীয় শাখার প্রাক্তন ডিরেক্টর ভাল্লাও সাফ জানান, ‘আমি এখনও মনে করি বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যপূরণ সম্ভব নয়।’ আর তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্টেক বলেন, ‘বিকশিত ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যপূরণে আমরা সঠিক দিশায় এগিয়ে চলেছি কি না, জিজ্ঞাসা করা হলে আমি এক কথায় বলব— এখনও না। তা পূরণ করতে গেলে বৃদ্ধির হার আরও বেশি হতে হবে।’ একই সঙ্গে ‘বিকশিত ভারত’-এ সম্পদের অসম বণ্টন নিয়েও সতর্ক করেন মন্টেক। তাঁর কথায়, ‘ভারতের কোনো কোনো অংশ হয়তো বিকশিত হবে। তবে বৃহত্তর অংশের এ থেকে কোনো লাভ হবে না।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ