নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা ভোটের আগে পেশ করা রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট যে জনমুখী হবে, সেই আশা ছিলই। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার যে বাজেট বিধানসভায় পেশ করলেন, তার তারিফ করল শিল্পমহলও। তাদের বক্তব্য, এতে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়বে, যার সুফল পাবে বাণিজ্যমহল।
ভারত চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নরেশ পাচিসিয়া বলেন, এবারের বাজেটে যেভাবে জনমুখী প্রকল্প ঘোষিত হয়েছে, তাতে রাজ্যবাসীর হাতে যে নগদ টাকা আসবে, তা তাঁরা খরচ করবেন। তা পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা বাড়াবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথীর মতো প্রকল্পগুলির পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধিও রাজ্যের অর্থনীতিতে নগদ জোগান বাড়াবে। এখানে বিশ্বমানের যে গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার গড়ার কথা বাজেটে ঘোষিত হয়েছে। তাতে পূর্ব এবং উত্তর-পূর্বের প্রবেশদ্বার হিসেবে রাজ্যের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।
মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট প্রীতি এ সুরেখার দাবি, রাজ্যের বাজেট বরাদ্দ পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মান উন্নয়ন সূচকে বাংলাকে আরও উপরের দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে এই পদক্ষেপ। কল্যাণমূলক যে প্রকল্পগুলি ঘোষিত হয়েছে, তা যেমন গ্রামভিত্তিক অর্থনীতি দৃঢ় করবে, তেমনই দারুণভাবে উপকৃত হবে ছোটো ও মাঝারি শিল্প। এবারের বাজেটে দাবি করা হয়েছে, জিডিপির নিরিখে ঋণের অনুপাত কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি যেটুকু বাড়তি ঋণ নেওয়া হবে, তা খরচ হবে পরিকাঠামো গড়তে। রাজ্যের জন্য এটি অত্যন্ত সদর্থক পদক্ষেপ।
বণিকসভা সিআইআইয়ের আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় বুধিয়ার কথায়, এই বাজেটে যে পদক্ষেপগুলি করার কথা ঘোষিত হয়েছে, তা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাশাপাশি আশাকর্মী, গিগকর্মী, প্যারাটিচার, সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিসের মতো ক্ষেত্রগুলিতে আর্থিক অনুদান বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত ভালো প্রভাব ফেলবে এই পদক্ষেপ। সরকার ছোটো শিল্পের জন্য পাঁচটি নতুন শিল্পতালুক গড়ার কথা জানিয়েছে। তা বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের দিশারি হবে।
আবাসন নির্মাতা সংস্থাগুলির সংগঠন ক্রেডাইয়ের ওয়েস্ট বেঙ্গল চ্যাপ্ট্যারের প্রেসিডেন্ট সুশীল মোহতা বলেন, এবারের বাজেটে যেভাবে জেলার শহরগুলির আধুনিকীকরণের কথা বলা হয়েছে, তা অত্যন্ত সদর্থক পদক্ষেপ। আমাদের সংগঠনও এই উন্নয়নের অংশীদার হবে। তবে শহরের আধুনিকীকরণের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে রাস্তা সংক্রান্ত পরিকাঠামো উন্নয়নও জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বারাসত বা আমতলার মতো এলাকাগুলিতে সরু রাস্তা এবং জবরদখল যাতায়াতের পথে অসুবিধা তৈরি করে। এই ধরনের অসুবিধা যেকোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যার সমাধান অনায়াসে রাজ্যের উন্নয়ন এনে দেবে।
সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের এমডি ও সিইও শুভঙ্কর সেন বলেন, এবারের বাজটে মহিলা ও যুবসমাজের প্রতি নজর বাড়ানো হয়েছে এবং তাঁদের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরাও যেহেতু এরাজ্যের বাণিজ্যের অংশীদার, তাই আমরাও এখানকার কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্যোগ নিচ্ছি এবং সবসময় রাজ্যের পাশে আছি।