থানার দেওয়াল টপকে করলায় ঝাঁপ চোরের, সাঁতরে ধরল পুলিশ
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ‘আমি এখন জল পুলিশের আন্ডারে।’ আশিতে আসিও না ছবিতে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত ডায়ালগ এখনও বাঙালির মনে। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই যুক্তিতে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি তাঁকে। তবে অভিনেতার ভাগ্যের মতো অতটা সৌভাগ্য ছিল না জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশের হাতে আটক চোরের। থানা থেকে পালিয়ে করলা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে অন্য পাড়ে উঠে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে চেয়েছিল সে। তবে পুলিশও নাছোড়বান্দা হয়ে জামা খুলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পিছু নেয় তার। পরে হাকিমপাড়ার দিকে থাকা করলা নদীর ঘাট থেকে চোরকে ধরে সোজা থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সঙ্গে জোটে কয়েক ঘা। বৃহস্পতিবার দুপুরে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় আটক বা গ্রেপ্তার হওয়া দুষ্কৃতীদের উপর পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Advertisement

থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে জলপাইগুড়ি শহর থেকে এক মাদকাসক্ত চোরকে ধরে পুলিশ। থানায় রেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। বেশকিছু তথ্যও সে দেয়। দুপুর নাগাদ থানার ওই জিজ্ঞাসাবাদের ঘরে ধীরে ধীরে পুলিশের ভিড় কমতে শুরু করে। তার উপর থেকে পুলিশ কর্মীদের নজরও সরে গিয়েছিল। বেঞ্চে বসে সেই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিল আটক চোর। সেই মুহূর্তেই সোজা উঠে দাঁড়িয়ে দরজা খুলে দৌড়াতে শুরু করে চোর। থানার পিছনের দেওয়াল টপকে করলা নদীতে ঝাঁপ দেয় সে। অন্যদিকে, চোরকে পালাতে দেখেই থানায় উপস্থিত প্রায় সমস্ত পুলিশ কর্মী তার পিছু ধাওয়া করে। কেউ সামনে দিয়ে কেউ আবার পিছন দিয়ে চোরের পিছু নেন। অন্যদিকে এক পুলিশ কর্মী জমা খুলে ঝাঁপ দেন নদীতে। চোর পিছনে তাঁকে দেখে হাল ছেড়ে দিয়ে নদীর অন্য পাড়ে কোনোমতে উঠে টান হয়ে শুয়ে পড়ে। পুলিশ কর্মী সেখানে গিয়ে চোরকে ধরে ফেলেন। ওপার থেকে আরও পুলিশ সেখানে পৌঁছে তাকে ধরে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাকে ঘিরে থানা চত্বরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। অনেক মানুষই চোরের পিছনে ছুটতে থাকা পুলিশকে দেখে কৌতূহলবশত তাদের পিছু ছুটতে থাকে। চোরকে ধরে নিয়ে আসা পুলিশদের নানা প্রশ্ন করতে থাকে।
যদিও এই ঘটনা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন জেলার পুলিশ কর্তারা। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, আটক চোর পালানোর চেষ্টা করেছিল। আমরা দ্রুত তার পিছু নিয়ে ধরে ফেলেছি।