নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘চোর’, ‘বেইমান’ শব্দে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আখ্যা দেওয়া হল ছবি সহ পোস্টারে। সৌজন্যে তাপস রায় ও কুণাল ঘোষ। ঘটনাচক্রে সুদীপের বিরুদ্ধে যেদিন পোস্টার পড়ল তাঁর দুয়ারে, ঠিক সেদিনই এনসিপিআই দলের সাংসদরা শামিল হলেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ’র বৈঠকে। আর এই দু’টি ঘটনা ঘিরে তপ্ত রইল উত্তর কলকাতার রাজনৈতিক মহল।
উত্তর কলকাতার দীর্ঘদিনের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই সুদীপ অন্য পথ ধরেন। মমতার তৃণমূল ত্যাগ করে নাম লিখিয়েছেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই দলে। আবার এনসিপিআই দলের সাংসদরা মঙ্গলবার হাজির ছিলেন নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে এনডিএ’র বৈঠকে। তার আগে সোমবার রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তর নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রইল উত্তর কলকাতা।
এদিন তালতলা, এস এন ব্যানার্জি রোড সহ উত্তর কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় এই পোস্টার দেখা যায়। বিশেষ করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির চৌহদ্দিতে এই পোস্টার নজরে পড়েছে আমজনতার। পোস্টারে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রয়েছে। সঙ্গে লেখা, ‘বেইমান আর চোরটা/নয়না দিদির বরটা।’ তাৎপর্যপূর্ণ হল, ওই পোস্টারে প্রচারে নাম রয়েছে তাপস রায়, কুণাল ঘোষের। বাংলার রাজনৈতিক মহল জানে, তাপস রায় এখন বিজেপি সরকারের শিল্পমন্ত্রী। আর কুণাল ঘোষ মমতা তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক। সুদীপের বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই সরব তাপস ও কুণাল। অতীতে সুদীপের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন তাঁরা। সুদীপ সাংসদ হলেও কর্মীদের সম্মান দেন না, কাউন্সিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না, এমন অভিযোগ রয়েছে। তবে পোস্টারের প্রচারে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা ওই ব্যক্তি নন বলে জানিয়েছেন তাপস রায় ও কুণাল ঘোষ। রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ‘তাপস রায় নামে অনেক নেতা আছেন। পোস্টারে নাম থাকা তাপস রায় আমি নই।’ তবে তাঁর সংযোজন, ‘আমি কলকাতা উত্তরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী। সুদীপের বিরুদ্ধে উত্তর কলকাতার মানুষ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তৃণমূলের কর্মীরাও সুদীপের উপর খাপ্পা। তৃণমূলে এখন অনেক পক্ষ, এই পোস্টার সাঁটা তাদেরই কারও কাজ।’
বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘এই পোস্টার দেওয়ার সঙ্গে আমি যুক্ত নই। তবে এটা প্রকাশ্যেই বলব, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বেইমান তো বটেই। তৃণমূলের কোনো লোক সুদীপবাবুকে সমর্থন করেন না। আর এখন সুদীপবাবু যাচ্ছেন বিজেপির কোলে দোল খেতে, সেই বিজেপি দলের লোকেরাও তাঁর উপর ক্ষুব্ধ।’ নিজস্ব চিত্র