


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও মেদিনীপুর এবং সংবাদদাতা, তেহট্ট: ‘আমাদের একটাই দাবি ছিল—জাস্টিস। ওরা আমার সিঁথির সিঁদুর কেড়ে নিয়েছে। অপারেশন সিন্দুর তাই যথাযথ জবাব। ভবিষ্যতে আর কারও কপালের সিঁদুর যেন এভাবে মুছে না যায়।’
কথা শেষ হওয়ার আগেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন পহেলগাঁও হামলায় নিহত বিতান অধিকারীর স্ত্রী সোহিনী। গত ১৪ দিন ধরে যেন এই বদলার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। বিতানবাবুর মতোই রাজ্যের আরও দু’জন পর্যটক নিহত হন বৈসরণ ভ্যালিতে জঙ্গিদের বুলেটে। তাঁরা হলেন বেহালার সমীর গুহ, পুরুলিয়ার ঝালদার মণীশরঞ্জন মিশ্র। হামলার কয়েকদিন পর উধমপুর সেক্টরে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও জঙ্গিদের গুলির লড়াইয়ে শহিদ হন নদীয়ার জওয়ান ঝন্টু আলি শেখ। এঁদের প্রত্যেকের পরিবারের সদস্যরাই ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রিয়জনের অভাবনীয় মৃত্যুর পর দিশাহারা পরিবারগুলি এই বদলা দেখে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে।
পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি চিহ্নিত করে ভারতের এয়ার স্ট্রাইকের পরও সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হতে পারছেন না নিহত সমীর গুহর স্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকারি এই অফিসারের স্ত্রী শর্বরী গুহ বলেন, ‘আগে জঙ্গিরা সম্পূর্ণ নিকেশ হোক, তবেই ন্যায়বিচার মিলবে। পাল্টা আঘাত করতেই হতো। জঙ্গিদের শেষ করে দেওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের যে ক্ষতি হয়ে গেল, তা তো আর পূরণ হবে না! এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হোক, এটাই চাইব।’ ২২ এপ্রিল নৈস্বর্গিক উপত্যকায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিতে মৃত্যু হয় আইবি অফিসার মনীশরঞ্জন মিশ্রের। পাক জঙ্গি ঘাঁটি উড়িয়ে দেওয়ার পর মৃতের ভাই রাহুলরঞ্জন মিশ্র বলেন, ‘অপারেশন সিন্দুর তো সবে শুরু। জঙ্গিদের সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে। ভারতে থেকে যারা জঙ্গিদের সমর্থন করছে, তাদেরও একেবারে খতম করে দেওয়া উচিত। ফেসবুকে যাঁরা দেশবিরোধী মন্তব্য করছেন, এখনও পাকিস্তানকে সমর্থন করছে, তাদের প্রত্যেকের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি পাওয়া উচিত। সাইবার সেল চাইলেই ওদের খুঁজে বের করতে পারে।’ রাহুলবাবুর আরও সংযোজন, ‘যে যাওয়ার, সে তো গিয়েছে। দাদা তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু যারা এই ঘটনা ঘটাল, আর যে দেশ এই জঙ্গিদের সমর্থন করছে, সেই পাকিস্তানকে সবদিক দিয়ে নাস্তানাবুদ করে দিতে হবে।’
২৪ এপ্রিল উধমপুর সেক্টরে লাগাতার গোলাগুলি বর্ষণ শুরু করে জঙ্গিরা। প্রত্যুত্তরে গুলি চালায় ভারতীয় সেনাও। সেই লড়াইতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন নদীয়ার জওয়ান ঝন্টু আলি শেখ। তাঁর বাবা এদিন বলেন, ‘সেনার এই পদক্ষেপে আমরা খুশি। ছেলের আত্মা শান্তি পেয়েছে।’