কোলাপুর ও মুম্বই: মহারাষ্ট্রে ‘অপারেশন টাইগারে’র সত্যতা কি স্বীকার করে নিলেন অমিত শাহ? শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, শিবসেনা এখন একটাই। আর সেটি হল উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা। উদ্ধব থ্যাকারের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি)-তে ভাঙনের জল্পনার মধ্যেই শাহের এদিনের মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিন কোলাপুরে ধন্যবাদজ্ঞাপন সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী কংগ্রেস ও তাদের জোটসঙ্গী শিবসেনা (ইউবিটি)-র নেতা উদ্ধব থ্যাকারেকে তীব্র আক্রমণ করেছেন অমিত শাহ। তাঁর খোঁচা, অতীতে একনাথ সিন্ধের (বিজেপির শরিক নেতা) নেতৃত্বাধীন শিবসেনাকে পৃথক গোষ্ঠী হিসাবে উল্লেখ করতো হতো আমাদের। কিন্তু সেই পার্থক্যের আজ আর কোনো অস্তিত্ব নেই। এখন পৃথক কোনো আর গোষ্ঠী নেই। শিবসেনা এখন একটাই। ঘটনাচক্রে, শিবসেনার উদ্ধব গোষ্ঠীতে বিদ্রোহ ঘিরে তোলপাড় চলছে মহারাষ্ট্র তথা জাতীয় রাজনীতিতে। উদ্ধাবের দলের ৯ জন লোকসভার সদস্যের মধ্যে ৬ জনই জার্সি বদলে একনাথ সিন্ধের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দিতে চলেছেন। উদ্ধব ঘনিষ্ঠ রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউতের অভিযোগ, দল ভাঙানোর জন্য তাঁদের টিকিটে জেতা এই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের প্রত্যেককে ৫০ কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ‘অপারেশন টাইগার’ নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যে এবার বিরোধী নেতা উদ্ধবের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার অস্তিত্বরক্ষা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে একযোগে কংগ্রেস ও উদ্ধব থ্যাকারেকে আক্রমণও দেগেছেন তিনি। বলেছেন, আমি সাফ বলতে চাই, এই দেশটা ধর্মশালা নয়। এই দেশের মানুষই একমাত্র এখানে বসবাস করবেন। সব অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে।
শিবসেনা দিবস পালনের পৃথক মঞ্চ থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা গিয়েছে দুই শিবিরের নেতা একনাথ সিন্ধে ও উদ্ধব থ্যাকারেকেও। নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব থ্যাকারের প্রকৃত রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী বলে দাবি করেছেন সিন্ধে। উদ্ধব গোষ্ঠীকে কটাক্ষ করে মুম্বইয়ে তিনি বলেছেন, ‘এটা ট্রেলার মাত্র। আসল সিনেমা এখনও বাকি। আপনাদের সামনে আজ এক বাঘ দাঁড়িয়ে আছে। কিছু কুকুর সর্বদা চিৎকার করে চলে। আপনাদের বলতে চাই, কুকুর দল বেঁধে চিৎকার করে, বাঘ একা শিকার করে।’ অন্যদিকে উদ্ধব থ্যাকারে দলীয় কর্মীদের কাছে আবেগঘন আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আমার উপর আস্থা না থাকলে পদত্যাগ করতে রাজি। যা বলার আছে সামনাসামনি এসে বলুন। কিন্তু শিবসেনাকে চোর ও বিশ্বাসঘাতকদের হাতে পড়তে দেবেন না।’