• আটপৌরে করে পরা শাড়ি। কপালে বড়ো লাল টিপ। ঠোঁট রাঙানো লিপস্টিকে। বৌমাকে পাশে নিয়ে পরপর শট দিচ্ছেন শাশুড়ি। মাঝেমধ্যে চেখে দেখছেন মনভোলানো খাবার। পরিচালক কাট বলতেই ডাইনিং টেবিলে এসে বসলেন ‘শাশুড়ি’ ওরফে অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু। জি বাংলার ‘শাশুড়ি বৌমার রান্নাঘর’-এ তিনিই ‘শাশুড়ি’।
শাশুড়ি হিসেবে কেমন কমপ্লিমেন্ট পাচ্ছেন? বিশ্বনাথ বললেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া অনেকদিন দেখছি না। শুনেছি, যাঁরা খুব বেশি গভীরে যাচ্ছেন না, তাঁরা ভালোই বলছেন। ছেলে হয়ে কেন শাশুড়ির পার্ট করছে? এমন উক্তিও করছেন কিছু মানুষ। আমি সকলকে বলতে চাই, এটা বিনোদনের জায়গা থেকে ভাবুন।’
আপনাকে খুব যত্ন করে সাজানো হয়েছে। ‘হ্যাঁ, এটা তো একটা চরিত্র। আমি এনজয় করছি। আমার কাছে মজার না থাকলে সেটা পর্দায় দেখাতেও পারব না’, বললেন অভিনেতা। ‘রান্নাঘর’ জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান। তার সঞ্চালকের অফার পাওয়া কি অতিরিক্ত দায়িত্বের? বিশ্বনাথের কথায়, ‘জি বাংলায় ২০০৪ সালে ‘ধ্যাততেরিকা’ হতো। সেখানে অনেকটা এধরনের চরিত্র। আমি পাজামা-পাঞ্জাবি পরতাম। সঙ্গে একটা ওড়না রাখতাম। ওই ধারাবাহিক আমার ভাগ্য ঘুরিয়ে দিয়েছিল। প্রথম হোর্ডিংয়ে নিজেকে দেখেছিলাম। তারপর থেকে লোকে আমাকে দেখতে চাইত। প্রাইভেট পার্টিতে ডাকত, দর্শকের কৌতূহল ছিল, আমি কি সত্যিই এরকম? এরপর ‘সোনার সংসার’-এ এই ধরনের চরিত্র করতাম। ‘পয়লা বৈশাখ’, ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এও করলাম। তারপর জি-বাংলা কর্তৃপক্ষ ঠিক করল, এটাকে ফেরানো যেতে পারে। আমি মনে করি, দর্শককে যদি একটু ভালো লাগাতে পারি। দর্শক যেন দেখে বলেন, ‘বিশ্বনাথটা যা তা...’, তারপর হাসেন, এটাই উদ্দেশ্য।’
এই ধরনের অনুষ্ঠানে নিত্য নতুন খাবার চেখে দেখার সুযোগ হয়। সব খাবারই কি দারুণ? হেসে বিশ্বনাথের জবাব, ‘এক্সপ্রেশন দেওয়ার জন্য চ্যানেল থেকে আমাকে কিছু দেওয়া হয়। সব খাবারই যে দারুণ, তা নয়। তবে প্রসেসটা ঠিকঠাক থাকে। এভাবে করলে আপনার খাবারও খুব সুন্দর হবে।’
এই সংসারে শাশুড়ি বৌমার হাতাহাতি নেই। কিন্তু খিটিমিটি লেগে আছে। বৌমাদের জন্য কী টিপস দেবেন? ‘আগে গিয়ে ক্ষমা চাওয়াতে কোনো লজ্জা নেই। আমি করে দেখেছি। জীবন সত্যিই খুব সুন্দর। চলুন সকলে একসঙ্গে থাকি’, বললেন বিশ্বনাথ।