পিছু হটার প্রশ্নই নেই, জানাল ককরোচরা, তোলা হবে ব্যালট পেপারে ভোটের দাবিও
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘আপাতত নীরব। কিন্তু আমরা কাপুরুষ নই।’ নরেন্দ্র মোদি সরকারকে ফের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিল ‘ককরোচ’রা। একইসঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টি অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানিয়েছে, ‘পিছু হটার কোনো প্রশ্নই নেই। বিশেষ করে নিজের সম্মানের সঙ্গে কোনোরকম আপস করবে না আন্দোলনকারীরা। ফলাফল যাই হোক না কেন, বিক্ষোভ কর্মসূচি চলতেই থাকবে।’ জানা যাচ্ছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে এবার জুড়ছে ইভিএম বাতিল করে ব্যালট পেপারে ভোট করানোর দাবিও। অর্থাৎ, নরেন্দ্র মোদি সরকারকে আরও শক্ত চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করাচ্ছে জেন জি। আবারও বোঝানো হয়েছে, কোনো পরিস্থিতিতেই বিজেপি শিবির যেন মনে না করে, ‘ককরোচ’রা চুপ হয়ে গিয়েছে। 

Advertisement

ইতিমধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব অভিযোগ করেছেন, তাঁদের গতিবিধির উপর সবসময় সাদা পোশাকের পুলিশ নজর রাখছে। সোমবার এসংক্রান্ত বিষয়ে আরও একধাপ এগিয়ে সিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস অভিযোগ করেছেন, তাঁর হোয়াটস অ্যাপ ‘হ্যাক’ করা হয়েছে। তিনি নতুন মেসেজ পাঠাতে পারছেন না। প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরেই। সিজেপি নেতারা এর আগেও তাঁদের ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ করেছিলেন দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার সৌরভ যে অভিযোগ করেছেন, তা অন্য মাত্রা যোগ করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, আগামী ১ নভেম্বর রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা সমাবেশে যোগ দিতে পারে জেন জি’রাও। এর ফলে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হচ্ছে দিল্লির পুলিশ-প্রশাসনকে। 
সম্প্রতি যন্তরমন্তরে যাবতীয় বিক্ষোভ প্রদর্শনকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে ঘোষণা করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এক্ষেত্রে যন্তরমন্তরকে ‘ডি-নোটিফাই’ করে দিল্লির অন্যত্র তিনটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে নির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশের জায়গা হিসাবে। কিন্তু ওই ‘ডি-নোটিফিকেশনে’র পর থেকে একদিনের জন্যও যন্তরমন্তরে পুলিশি কড়াকড়ি কমানো হয়নি। আগামী ১ নভেম্বরের কথা মাথায় রেখে যন্তরমন্তর সহ সেন্ট্রাল দিল্লিতেই নজরদারি আরও বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। যন্তরমন্তরের অদূরে সংসদ ভবনে চলছে ব্রিকস পার্লামেন্ট ফোরাম। দু’দিনের এই সম্মেলন শেষ হবে আজ, মঙ্গলবার। এই সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন বিদেশি অভ্যাগতরাও। তাঁদের সামনে আচমকা যাতে কোনো বিক্ষোভ জেন জি শুরু করতে না পারে, সেই ব্যাপারেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে দিল্লির পুলিশ-প্রশাসনকে। সেই মতো করা হচ্ছে পদক্ষেপ।