নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিএফ গ্রাহককে অনলাইনে পরিষেবা প্রদানকেই পাখির চোখ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই কাজ যাতে আরো ভালো হয়, তার জন্য ঢেলে সাজা হয়েছে সফটওয়্যার। কয়েকশো কোটি টাকা খরচ করে যে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা কি আদৌ গ্রাহকের উপকারে আসছে? গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা বলছে, যতটা সুষ্ঠুভাবে তাঁরা পরিষেবা পাবেন বলে আশা করেছিলেন, তা তাঁরা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে কর্মদাতা সংস্থাগুলিরও পিএফ সংক্রান্ত যে প্রশাসনিক কাজ থাকে, তা থমকে যাচ্ছে প্রায়ই। ফলে কাজে বিলম্ব হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কী বলছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও)? তারা সরকারিভাবেই স্বীকার করে নিয়েছে, গ্রাহকদের সুষ্ঠু পরিষেবায় খামতি থেকে যাচ্ছে। ইপিএফও পোর্টালে যেমন অনলাইন সার্ভিস মেলে, তেমনই উমঙ্গ অ্যাপের মাধ্যমেও গ্রাহক তাঁর পিএফ অ্যাকাউন্টের খুঁটিনাটি দেখতে পারেন। অভিযোগ, পরিষেবা নেওয়ার জন্য গ্রাহক একবারের চেষ্টায় তাঁর কাজটি করতে পারছেন না। বারবার চেষ্টা করে তবেই সফল হচ্ছেন তিনি। কর্মদাতা সংস্থাগুলিও জানাচ্ছে, কোনো তথ্য আপলোড করতে হলে সার্ভার হয় ডাউন হয়ে যাচ্ছে, অথবা অ্যাকসেস করা যাচ্ছে না। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে।
এই সমস্যার সত্যতা পিএফ কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছেন। ওয়েবসাইটেই তাঁরা জানাচ্ছেন, ইপিএফও আরো ভালো পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে গ্রাহকের যে সমস্যা হচ্ছে, তার জন্য তাঁরা ক্ষমাপ্রার্থী। এমনকি, যাঁরা অনলাইনে পিএফের টাকা তোলার জন্য আবেদন করছেন, তাঁদের অনেকেরই সেই আবেদন যথাযথভাবে প্রসেস হচ্ছে না। এই অসুবিধার কথা সরকারিভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন পিএফ কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বক্তব্য, পিএফ অ্যাকাউন্টে যে টাকা জমা হয়, তার তথ্যও সবসময় দেখা যাচ্ছে না। এই সমস্যার জন্যও দুঃখপ্রকাশ করেছেন তাঁরা। গ্রাহকদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার যেখানে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কথা বলছে, স্বচ্ছতার উপর জোর দিচ্ছে, সেখানে কেন কোটি কোটি গ্রাহকের পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার ডিজিটাল ব্যবস্থার এমন হাল হবে? এই ব্যাপারে অবশ্য কোনো জবাব নেই পিএফ কর্তৃপক্ষের কাছে।



