Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাম নেই, সরকারিভাবে আম বিপণনের ব্যবস্থা ও হিমঘর তৈরির দাবি চাষিদের

ফলন ভালো হয়েছে। তবুও লাভের মুখ দেখতে পারছেন না নবদ্বীপের আমচাষিরা।

দাম নেই, সরকারিভাবে আম বিপণনের ব্যবস্থা ও হিমঘর তৈরির দাবি চাষিদের
  • ২৯ মে, ২০২৬ ১৪:০৫

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ফলন ভালো হয়েছে। তবুও লাভের মুখ দেখতে পারছেন না নবদ্বীপের আমচাষিরা। ঠিকমতো দাম না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন নবদ্বীপ ব্লকের মায়াপুর-বামুনপুকুর-২ পঞ্চায়েতের ইদ্রাকপুর গ্রামের আমচাষিরা। তাঁদের দাবি, সরকারিভাবে আম বিপণনের ব্যবস্থা হোক। পাশাপাশি আম সংরক্ষণের জন্য এলাকায় হিমঘর তৈরি করলে উপকৃত হবেন এখনকার আমচাষিরা। জানা গিয়েছে, ইদ্রাকপুর গ্রামে প্রায় পাঁচশো বিঘারও বেশি এলাকাজুড়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ আমবাগান। 

Advertisement

এবার কয়েক দফা ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অনেক আম নষ্ট হয়েছে। তা সত্ত্বেও এবার আমের ভালো ফলন হয়েছে। তবে ভাইরাসঘটিত রোগের কারণে আমের গায়ে সাদা দাগ দেখা দেওয়ায় বাজারে দাম কম পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় আমচাষি সুশীল ঘোষ জানান, তিনি প্রায় পাঁচশো আম গাছ লিজ নিয়ে নিয়েছেন। পৌষ মাস থেকেই শুরু হয় পরিচর্যার কাজ। আমের ক্ষতি করছে মধু পোকা। ভিতরের রস খেয়ে নেওয়ার ফলে আম শুকিয়ে গাছ থেকে পড়ে যায়। তারউপর আমে সাদা দাগের কারণে বাজারে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এখানকার আম মূলত আসানসোল, শিলিগুড়ি-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। নবদ্বীপের বুকে যদি সরকারিভাবে আম কেনাবেচার ব্যবস্থা ও হিমঘর করা হয়, তাহলে চাষিদের অনেক সুবিধা হবে। 
ইদ্রাকপুর মাঝেরপাড়ার বাসিন্দা প্রতাপ ঘোষ বলেন, গত ১৫ বছর ধরে আমি আমচাষের সঙ্গে যুক্ত। প্রায় একশো বিঘা জমিতে আমগাছ রয়েছে। বাগান থেকে হিমসাগর ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি, আর ল্যাংড়া আম  ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে পাইকাররা কিনছেন। আমার বাগানে ২২জন শ্রমিক কাজ করছেন। এই দামে আম বিক্রি করে লাভ করা যাবে না।
আম বাগানে কাজ করেন পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী থানার পলাশপুলির বাসিন্দা সুমন্ত দাস ও রবি মাহাত। তাঁরা গাছ থেকে আম পেড়ে ঝুড়িতে কার্বাইড দিয়ে পাকান। তিনদিন পরে সেই আম প্লাস্টিকের ক্যারেটে ভরে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। দেড় মাস ধরে এই কাজ চলে। এই কাজের জন্য প্রতিদিন তাঁরা ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পান। তাঁরা বলেন, বাজারে আমের আমদানি বেশি হওয়ায় লাভজনক দাম পাওয়া যাচ্ছে না। 
পূর্বস্থলীর কৈবর্তপাড়ার বাসিন্দা জয়দেব বিশ্বাস ও বাপন পণ্ডিত জানান, প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ ঝুড়ি আম পাকানোর কাজ হয়। কাছাকাছি কোনো হিমঘর না থাকায় আম সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। ফলে,বাধ্য হয়েই কম দামে আম বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকার যদি বিপণন ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমচাষের সঙ্গে যুক্ত বহু পরিবার উপকৃত হবে। এ প্রসঙ্গে বিজেপির নদীয়া সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী  অপর্ণা নন্দী বলেন, আগামী দিনে অবশ্যই হিমঘর তৈরি করা হবে। পূর্বতন সরকার চাষিদের কথা ভাবেনি। বর্তমান বিজেপি সরকার সব স্তরের মানুষের জীবিকার কথা ভাবছে। স্থানীয় বিধায়কের মাধ্যমে হিমঘর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ