নিউ ইয়র্ক: ‘ফকল্যান্ড ওয়ার’ ভোলেনি আর্জেন্তিনা। ইংল্যান্ড শিবিরে চিড়বিড়ে জ্বালা ধরায় ‘হ্যান্ড অব গড।’ নীল-সাদা বনাম থ্রি লায়ন্স। ফুটবল মাঠে মুখোমুখি হওয়া মানেই ধুন্ধুমার লড়াই। চকমকির স্ফুলিঙ্গ তাতে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। চলতি টুর্নামেন্টেও দু’দেশের সাক্ষাতের সম্ভাবনা প্রবল। বিতর্ক এড়াতে ফিফাও সতর্ক। আর্জেন্তিনার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে কোনো ইংল্যান্ডের রেফারি থাকছেন না। হ্যারি কেনদের ক্ষেত্রেই একই বিষয় প্রযোজ্য। অর্থাৎ ইংল্যান্ডের ম্যাচ থেকে সচেতনভাবে সরিয়ে রাখা হচ্ছে মেসির দেশের রেফারিদের।
এত সতর্কতা কেন? পিছিয়ে যেতে হয় দীর্ঘ ৪৪ বছর। ফ্ল্যাশব্যাক ১৯৮২। ইংল্যান্ডের অধীনে থাকা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে আক্রমণ শানায় আর্জেন্তিনা। যুদ্ধ শুরু। চার বছর পর মেক্সিকো বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক লড়াই। মারাদোনার হ্যান্ড অব গড ঘিরে বিতর্কের ফুলকি। সেই আগুন নেভেনি আজও। সব ঠিকঠাক থাকলে চলতি বিশ্বকাপে শেষ চারে লায়োনেল মেসি ও হ্যারি কেনের দ্বৈরথ দেখা যেতে পারে। আর তাই অগ্রিম সতর্ক বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। এমনিতেই রেফারিং নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। প্রি-কোয়ার্টার-ফাইনালে আর্জেন্তিনা বনাম মিশর ম্যাচের পর দাবানল জ্বলছে। সবমিলিয়ে প্রবল চাপে ফিফা। এখানেই শেষ নয়। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। আমেরিকার ফুটবলার বোলোগান লাল কার্ড দেখেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে তাঁর খেলার কথাই নয়। কিন্তু সবাইকে অবাক করে আসরে নামেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরাসরি ফোন করেন ফিফা সভাপতিকে। ট্রাম্পের অনুরোধে শাস্তি মুকুব হয়। তবে বোলাগোন খেললেও লাভের লাভ হয়নি। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় আমেরিকা। কিন্তু বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন খেপে লাল। শেষ গোলের পর দলের সেলিব্রেশনে ট্রাম্প ডান্স ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধে।