


সংবাদদাতা, ডোমকল: একসময় হাসপাতালে চালু ছিল ইনডোর পরিষেবা। চিকিৎসক-রোগীর ভিড়ে গমগম করত হাসপাতাল চত্বর। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেউ বদলি হয়েছেন, কেউ অবসর নিয়েছেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে বহুদিন আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে ইনডোর পরিষেবা। এখন হাসপাতালে নেই কোনও চিকিৎসক। ফলে রোগী দেখছেন নার্স ও ফার্মাসিস্টই। জলঙ্গির ফরিদপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কার্যত ধুঁকছে আউটডোর পরিষেবাও। তাঁদের হাত ধরেই কোনওক্রমে টিমটিম করে জিইয়ে রয়েছে হাসপাতালের পরিষেবা।
জলঙ্গির পাকুড়দিয়ার এলাকায় অবস্থিত ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। জানা গিয়েছে, আশেপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক রোগী চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় তাঁদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে এক জন নার্স ও ফার্মাসিস্টকে। স্থানীয়দের দাবি, এক সময় হাসপাতাল চত্বরে অন্যরকম পরিবেশ ছিল। চিকিৎসকরা হাসপাতালের কোয়ার্টারেই থাকতেন। দূরদূরান্ত থেকে রোগীরা আসতেন। তাঁদের ভিড়ে গমগম করত হাসপাতাল চত্বর। রমরমিয়ে চলত ইনডোর পরিষেবা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে চিকিৎসকরা হাসপাতাল ছাড়তে থাকেন। এরপর থেকেই ধুঁকতে শুরু করে হাসপাতালটি। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায় ইনডোর পরিষেবা। ভবন আগাছায় ঢেকে যেতে শুরু করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সেখানে রয়েছেন মাত্র এক জন নার্স ও এক জন ফার্মাসিস্ট। চিকিৎসক না থাকায় সমস্ত রোগীকে সামলাতে হচ্ছে তাঁদের দু’জনকেই।
সাধারণত জ্বর-সর্দির মতো সমস্যায় বাসিন্দারা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন। কিন্তু সামান্য কাটা-ছেড়ার চিকিৎসার জন্যও অনেক সময় ছুটতে হয় প্রায় দশ কিলোমিটার দূরের সাদিখাঁরদিয়াড় গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল শেখ বলেন,জরুরি পরিষেবা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেলে না। সামান্য কাটাছেঁড়ার জন্যও দূরের হাসপাতালে যেতে হয়। এতদিন ধরে হাসপাতালের এমন অবস্থা হলেও স্বাস্থ্য দপ্তরের কোনও হেলদোল নেই।
জলঙ্গির বিএমওএইচ ওয়াসিম রেজা বলেন, চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। নতুন করে চিকিৎসক নিয়োগ হলে সেখানে চিকিৎসক পাঠানো হবে। -নিজস্ব চিত্র