নিজস্ব প্রতিনিধি, কল্যাণী: চারদিনের পুজো সাধারণ মানুষের উত্সাহ-উদ্দীপনায় বাড়তে বাড়তে এখন ছয়-সাত দিনের হয়ে গিয়েছে। তার জেরেই চাঙ্গা হচ্ছে ব্যবসা। শুধু কলকাতা নয়, শহরের অদূরে সাজানো শহর কল্যাণীও এখন এর শরিক। ভিন জেলা তো আছেই এমনকি ভিন রাজ্য থেকেও কল্যাণীতে ঠাকুর দেখতে আসে মানুষ। ঠাকুর দেখে ফিরতে সমস্যা হলে, তাঁরা রাত কাটান এই শহরে। কল্যাণী শহরের হোটেল কিংবা গেস্ট হাউজগুলিতে এখন ঘর বুক চলছে। কোনও কোনও হোটেল পুরোটাই বুকড। ব্যবসায়ীরা জানালেন, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার থেকেও লোক আসছে। এর আগেও এসেছেন। ফলে এই বছরও ভিড় বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা। এমনকি কিছু হোটেলে তো ইতিমধ্যেই ঘর বুক করা শুরু হয়ে গিয়েছে।
কল্যাণী পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার এবং হোটেল ব্যবসায়ী দেবাশিস হালদার বললেন, ‘আমাদের এখানে এইমস হওয়ার পর হোটেলের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তার উপরে পুজো নিয়ে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে গত কয়েক বছরে। আমার হোটেলে তিনজন আসছেন রাজস্থান থেকে। ওঁরা আগে থেকেই ফোনে বুক করে ফেলেছেন।’ মোটামুটি পঞ্চমী-ষষ্ঠী থেকেই ভিন রাজ্যের লোকজনের আনাগোনা শুরু হয়ে যায় বলে জানাচ্ছেন পুজো উদ্যোক্তারা। লুমিনাস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক অমিত বিশ্বাস বললেন, ‘কলকাতা থেকে তো লোকজন আসছেনই। পুজোর সময় ঝাড়খণ্ড, বিহার, বেনারস, দিল্লি থেকেও অনেক দর্শনার্থী আসছেন। এমনকি বাংলাদেশ আর ব্যাংকক থেকেও দর্শনার্থী এসেছেন আমাদের পুজোতে।’ কল্যাণী আইটিআই মোড় থেকে সেন্ট্রাল পার্কের দিকে এগলে পরপর বেশ কয়েকটি হোটেল ও গেস্ট হাউজ। সেখানে খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে, এসি ঘর ১২০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে যায়। ভিন রাজ্যের বাসিন্দারা যেমন ফোন করে আগেই বুক করে রাখেন। আবার ভিন জেলার দর্শনার্থীরা রাতে যদি ফিরতে না পারেন, তবে ওদিন রাতেই ঢুঁ মারেন গেস্ট হাউজে। এক গেস্ট হাউজের কর্মীর কথায়, ‘আমার এখানে ইতিমধ্যেই দু’জন পুরোহিত চলে এসেছেন। ওঁদের কোনও প্যান্ডেলে পুজো করার কথা রয়েছে। মালদা-মুর্শিদাবাদের মতো জেলা থেকেও লোকজন আসেন। তাঁরা রাত কাটিয়ে তারপর বাড়ি ফেরেন।’
সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার সময় বাংলার মানুষ পরিযায়ী পরীক্ষার্থী দেখেছিল। পুজোয় কল্যাণীর দৌলতে তৈরি হয়েছে পরিযায়ী দর্শনার্থীর। উত্সবের যে সীমানা নেই, তা আবারও প্রমাণ করছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ দুর্গোত্সব।
লুমিনাসে তোলা নিজস্ব চিত্র।