সংবাদদাতা, কান্দি: শববাহী গাড়ি না থাকায় মৃতদেহ বহন করতে হয় অ্যাম্বুলেন্সে। ভরতপুর বিধানসভার দু’টি গ্রামীণ হাসপাতালেই এমন অবস্থা চলছে কয়েকবছর ধরে। যদিও প্রায় ১০ বছর আগে বিধায়ক তহবিল থেকে একটি শববাহী গাড়ি দেওয়া হলেও এখন সেটি নষ্ট হয়ে জঙ্গলে পড়ে রয়েছে। তাই চিকিৎসক ও বাসিন্দারা দাবি করছেন, দু’টি হাসপাতালেই অন্তত একটি করে শববাহী গাড়ির ব্যবস্থা হোক। ওই দুই হাসপাতাল হল ভরতপুর গ্রামীণ হাসপাতাল ও সালার গ্রামীণ হাসপাতাল। ভরতপুরের বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, দু’টি হাসপাতালেই শববাহী গাড়ির ব্যবস্থা করব। তবে কিছুটা সময় লাগবে।
এই দুটি হাসপাতালেই রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি একাধিক অ্যাম্বুলেন্স। দুই জায়গাতেই কোনো শববাহী গাড়ি না থাকায় কারো মৃত্যু হলে দেহ বহন করার জন্য ওই অ্যাম্বুলেন্সের উপরই নির্ভর করতে হয়।
তবে অ্যাম্বুলেন্স চালকরাও এটিকে ভালো ভাবে নেন না। ভরতপুরের এক অ্যাম্বুলেন্স চালক বলেন, সাধারণত যে গাড়িতে শব বহন করা হয়, সেই গাড়িতে রোগীর পরিবার যেতে চান না। কাজেই আমাদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সে মৃতদেহ বহনের পর সেটিকে পরিষ্কার করতে অনেক টাকাও খরচা হয়। যেটা আমাদের নিজেদেরই করতে হয়। কাজেই শববাহী গাড়ি থাকলে এই সমস্যা হতো না।
এদিকে প্রায় ১০ বছর আগে ভরতপুরের প্রাক্তন বিধায়ক আরএসপির ঈদ মহম্মদ তহবিলের টাকায় সালার গ্রামীণ হাসপাতালে একটি শববাহী গাড়ির ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু ওই গাড়ির চালকের মৃত্যুর পর সেটি আর নতুন করে কাউকে চালাতে দেখা যায়নি বলেই দাবি। এখন সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ওই হাসপাতালের পূর্বদিকের জঙ্গলের মধ্যে। গাড়ির রং চটে গিয়ে মরিচা ধরেছে।
এনিয়ে ভরতপুর ২ বিএমওএইচ ইন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, আমার এখানে কাজে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই এটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। তবে শববাহী গাড়ি থাকলে উপকার হয়। প্রায় একই বক্তব্য ভরতপুর ১ বিএমওএইচ শীর্ষ চট্টোপাধ্যায়েরও। তিনি বলেন, শববাহী গাড়ি না থকার জন্য অ্যাম্বুলেন্সেই মৃতদেহ বহন করতে হয়। যেটিকে অনেক রোগীর পরিবার ভাল চোখে নেন না। তাই এখানেও একটি শববাহী গাড়ি থাকলে ভালো হয়। সালার গ্রামীণ হাসপাতালে কয়েকবছর ধরে এভাবেই পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে শববাহী গাড়ি। -নিজস্ব চিত্র