Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গ্রুপ ডি কর্মী নেই স্কুলে, তালা খোলে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র, রোজই ক্লাস শুরু হতে দেরি

একজনও গ্রুপ ডি কর্মী নেই। ফলে চাবি দিয়ে স্কুলের সদর দরজার তালা খোলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্র।

গ্রুপ ডি কর্মী নেই স্কুলে, তালা খোলে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র, রোজই ক্লাস শুরু হতে দেরি
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: একজনও গ্রুপ ডি কর্মী নেই। ফলে চাবি দিয়ে স্কুলের সদর দরজার তালা খোলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্র। দীর্ঘদিন ধরে এই আজব কাণ্ড চলছে আমতা পশ্চিম চক্রের ভাতেঘড়ি নিউ সেট আপ আপার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ছাত্রটির যেদিন আসতে দেরি হয়, সেদিন স্কুল খোলে দেরিতে। শনিবার তেমনই হয়েছে। কলকাতা থেকে আসা এক শিক্ষক ঠায় বসে থাকলেন স্কুলের বাইরে এক দোকানে।

Advertisement

অধিকাংশ দিনই নাকি বিদ্যালয় সময়ে খোলে না। কিছু ছাত্র-ছাত্রী বা কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা পৌঁছে গেলে বাইরে অপেক্ষা করেন। ফলে রোজই ক্লাস শুরু হয় দেরিতে। ছাত্রটি বাড়ি থেকে চাবি নিয়ে আসে, তারপর তালা খোলে, তারপর সবাই ঢোকে স্কুলে, তারপর শুরু হয় ক্লাস। শুনতে অবাক লাগে। তবে এটাই ঘটে চলেছে। জানা গিয়েছে, আপার প্রাইমারিটিতে কয়েকশো ছেলে, মেয়ে পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ের গেটের দু’টি চাবি। একটি থাকে প্রধান শিক্ষিকার কাছে। তবে তিনি অনেক দূর থেকে আসেন বলে দেরি হয়। তাই ষষ্ট শ্রেণির ওই ছাত্রটির কাছে থাকে অন্য চাবিটি। সে সেটি দিয়ে রোজ বিদ্যালয় খোলে। 
শনিবার সকাল ১০টা ৫০ নাগাদ দেখা গিয়েছে, আপারের পাশে থাকা অন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেট খোলা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আপার তখনও বন্ধ। দরজায় তালা ঝুলছে। সামনের মাঠে অপেক্ষা করছে ছাত্র-ছাত্রীর। তারা জানাল, সিক্সের ছাত্রটি বাড়ি থেকে চাবি নিয়ে আসবে। তালা খুলবে। তবে সবাই ভিতরে ঢুকতে পারবে। কলকাতা থেকে আসা শিক্ষক রাস্তার পাশে দোকানে বসেই রইলেন। ১০টা ৫৬ মিনিট নাগাদ ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রটি চাবি নিয়ে এল। তারপর সবাই ঢুকতে পারল স্কুলে। সে ছাত্রটি বলে, ‘আমি প্রতিদিনই তালা খুলি। যেদিন আসতে পারি না সেদিন অন্য একজনকে দিয়ে খুলে দিতে বলি।’ আমতা দু’নম্বরের বিডিও পিন্টু ঘরামী জানান, এই সমস্যার বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়নি। তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। এর পাশাপাশি হাওড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণকিশোর ঘোষ জানান, শিক্ষক-শিক্ষিকরা সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে বিদ্যালয়ে এসে গেলে এই সমস্যা হবে না। অনেক আপার প্রাইমারি বিদ্যালয়ে গ্রুপ ডি কর্মী নেই। বিদ্যালয়ের তালা খোলার দায়িত্ব শিক্ষিক-শিক্ষিকারাই নেবেন, ছাত্র-ছাত্রীরা নয়। তিনি বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ে কি হয়েছে সেটা আমি খোঁজ নেব।’  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ