সংবাদদাতা, হিলি: আন্তর্জাতিক নদী নিয়ে আলোচনায় গঙ্গা, তিস্তা বা পদ্মার নাম অনেকটা গুরুত্ব পেলেও সীমান্তবর্তী ছোট নদী ও খাড়ি নিয়ে আলোচনা ততটাই উপেক্ষিত থেকে যায়। বিস্মৃত প্রায় এই জল প্রবাহগুলির সরকারি স্বীকৃতি, বৈজ্ঞানিক নথিভুক্তকরণ ও সংরক্ষণের দাবি তুলেছেন আন্তর্দেশীয় নদী গবেষক অনুপ হালদার। যে নদীগুলোর কথা জানা যায় না, সেই নদীগুলির খোঁজে বিভিন্ন জেলায় ঘুরছেন তিনি।
বড় নদীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে ছোট নদী ও খাড়ি। অথচ সেই জলধারাগুলিই আজ অবহেলিত। দখল, অপরিকল্পিত নদী বাঁধ নির্মাণের চাপে একের পর এক নদী হারিয়ে যাচ্ছে। গঙ্গা বা তিস্তার থেকে এগুলির গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয় বলে মনে করেন গবেষকরা। সেই কারণেই এই ধরণের নদী ও খাড়ির প্রকৃত অবস্থা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত প্রয়োজন বলেও মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি দক্ষিণ দিনাজপুরে এবিষয়ে ক্ষেত্রসমীক্ষায় এসেছিলেন নদী গবেষক অনুপ হালদার। তিনি বলেন, সুন্দরবন থেকে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদীগুলির উপর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর দাবি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক নদী হিসেবে স্বীকৃত নদীর সংখ্যা ৫৪ হলেও, বাস্তবে আরও ১৫০টিরও বেশি নদী ও জলধারা রয়েছে। যেগুলির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কিংবা জলবণ্টনের প্রশ্নে কার্যত কোন গুরুত্ব নেই।
অনুপ হালদারের অভিযোগ, দক্ষিণ দিনাজপুরের পুনর্ভবা, টাঙ্গন ও আত্রেয়ী নদীগুলিতে আন্তর্জাতিক নদী আইনের নীতি উপেক্ষা করে ছোট-বড় বাঁধ, ব্যারেজ ও মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁর সমীক্ষায় উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর ও জলপাইগুড়ি জেলায় অন্তত ৪০টিরও বেশি নদীতে জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুরের চিরি নদী, ঘুশকি খাড়ি ও কাশিয়া খাড়ির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই ধরনের ছোট নদী ও খাড়িগুলি বড় নদীর জীবনরেখা। রাজ্য জুড়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা, ডকুমেন্টেশন ও সরকারি স্বীকৃতির পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। আত্রেয়ী নদীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মোহনপুরের রাবার ড্যাম নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে একটি গ্রন্থ প্রকাশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রক, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, কোনোরকম সরকারি আর্থিক সহায়তা ছাড়া নিজেদের উদ্যোগে তাঁরা এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।