নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: বাঙালি মনন ও চিন্তনের মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্রনাথ রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার সরকারি তরফে এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। একজন বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে গেরুয়া শিবির পরিচালিত রাজ্য সরকারের এহেন পদক্ষেপ নজিরবিহীন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নেতাজিকে নিয়ে নাগাড়ে কটাক্ষ ও কটূক্তি পর্বে অনন্ত মহারাজের অনুগামীরা কয়েকধাপ এগিয়ে শালীনতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে সমাজমাধ্যমে প্রচার শুরু করেছিলেন। ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা আপামর বাঙালি পালটা প্রতিবাদে সরব হয়। এই পর্বেই এদিন সকালে নিউ আলিপুরের ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলায় নেতাজি মূর্তির ডান হাত ভাঙার ঘটনা সামনে আসায় তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়।
নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে নেতাজি অবমাননা ইস্যুতে জড়িত কাউকে যে ছাড়া হবে না, সে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি জানিয়েছিলেন, যে বা যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতাজি সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর তরফে সবুজ সংকেত মেলার পরই ওইদিন সন্ধ্যা থেকে ‘অপারেশন’ শুরু করে পুলিশ। গভীর রাত পর্যন্ত কলকাতা ও বিভিন্ন জেলার নেটিজেনদের ১০৮টি পোস্ট মুছে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩০। এই পোস্টগুলির সিংহভাগই কোচবিহারের বিভিন্ন প্রান্তের অনন্ত-অনুগামীদের। অবমাননাকর পোস্টের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে। এদের মধ্যে রয়েছে কোচবিহারের কোতোয়ালি থানা এলাকার অনন্ত অনুগামী পিন্টু রায় ও কৃষ্ণ কারজি এবং উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ার ঝাড়বাড়ির কিরণ কুমার দাস। এই ইস্যুতে রাত পর্যন্ত মোট ৯টি এফআইআর হয়েছে। সেইসঙ্গেই এদিন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তর। তাতে বলা হয়েছে, অনন্তর কাছে বঙ্গবিভূষণ থাকা ওই সম্মানের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সে কারণেই ফিরিয়ে নেওয়া হল। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে অপসারণ এবং অনন্ত মহারাজকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তারপরও অবশ্য অনন্ত মহারাজের বক্তব্য, ‘গ্রেপ্তার করতে হলে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে করুক। আমাকে গ্রেপ্তার করবে কেন? নেতাজি আজাদ হিন্দ ফৌজ বানাননি। ওটা আর্কাইভেই আছে। আর্কাইভের মালিক প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজাদ হিন্দ ফৌজ নেতাজি যে তৈরি করেননি, তা অমিত শাহ জানেন। আমায় বলেছেন, হাম জানতে হ্যায়। দেখ রহে হ্যায়।’