Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খড়গ্রামে পুজোর থিম মাতৃভাষায় জগৎশিক্ষা

বাংলায় কথা বললেই ভিনরাজ্যে বর্বরভাবে নির্যাতিত হতে হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের।

খড়গ্রামে পুজোর থিম মাতৃভাষায় জগৎশিক্ষা
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বাংলায় কথা বললেই ভিনরাজ্যে বর্বরভাবে নির্যাতিত হতে হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের। এবার সেই শ্রমিকদের সমব্যথী হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে বাংলা ভাষার প্রতি সম্মান জানাচ্ছে মুর্শিদাবাদের প্রত্যন্ত গ্রামের এক পুজো। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে যেভাবে বাংলার শ্রমিকদের উপর নির্যাতন হচ্ছে, তারই বিরুদ্ধে পুজোর মঞ্চকে হাতিয়ার করল খড়গ্রামের হরিপুর তরুণ সংঘ। সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে তাদের থিম ‘মাতৃভাষায় জগত শিক্ষা’। 

Advertisement

গ্রামের একমাত্র বারোয়ারি পুজোর মণ্ডপ সজ্জায় ব্যবহার হচ্ছে পাড়াগাঁয়ে রোজকার ব্যবহার্য জিনিসপত্র। খাদির কাপড়, বাঁশ-চটা, দড়ি এবং মাটি। গ্রাম বাংলার অত্যন্ত পরিচিত এইসব সামগ্রী দিয়েই সেজে উঠছে পুজো মণ্ডপ। শিল্পী তথা পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ রামকৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, গ্রামের লোক চাঁদা তুলে এই পুজোর আয়োজন করেন। গ্রামের একমাত্র বারোয়ারি পুজো হওয়ায় এটা নিয়ে সকলের আগ্রহ থাকে। এবারের থিম মাতৃভাষায় জগৎ শিক্ষা। আমরা বরাবরই পুজো করি। কিন্তু এবার পুজোর মাধ্যমে বিশেষ বার্তা দিতে চাই। ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে নির্যাতন হচ্ছে। আমাদের মাতৃভাষা শুনেই ওরা আক্রমণ করছে। তাই মাতৃভাষাকে হাতিয়ার করেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা। এবারের এই বিষয় ভাবনার জন্য জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পুজো দেখতে আসবে বলেই আমরা আশাবাদী। 
অন্যান্য পুজো উদ্যোক্তারা বলেন, গ্রাম বাংলায় হাতের কাছে পাওয়া যায় যে সমস্ত জিনিস, সেই পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়ে গড়ে উঠছে মণ্ডপ। খাদির কাপড় ব্যবহার করে বাঁশ ও দড়ি ব্যবহার হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা এই সমস্ত সামগ্রী এনে মণ্ডপ সাজাচ্ছি। প্রতিমার কাপড় থেকে শুরু করে পুজো মণ্ডপে যে সমস্ত কাপড়ের ব্যবহার হচ্ছে তা গ্রামের তাঁতিদের বোনা। 
রামকৃষ্ণবাবু বলেন, হরিপুর গ্রামে ৭০০ ঘর তাঁতি আছে। তাঁদের বোনা কাপড়ই আমরা ব্যবহার করছি। বাজেট সেভাবে নেই। পৌনে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা তুলে পুজো করছি। এক তাঁতি প্রতিমার জন্য কাপড় দিয়েছেন। এখানে মা দুর্গাকে গ্রাম্য বধূ রূপে দেখানো হচ্ছে। লক্ষ্মী সরস্বতী অবিবাহিত। কার্তিক ও গণেশ কিশির। মণ্ডপে দেখা যাবে, মা সরস্বতী লিখছেন এবং মা লক্ষ্মী বই পড়ছেন। গণেশ পিছনে আছে। সে বিয়ে করার জন্য উদ্যোগী হয়েছে। পাঞ্জাবি ও ধুতি পরিধান করেছে। তাই মা দুর্গা তাকে শাসন করে পিছনে সরিয়ে দিয়েছে। মণ্ডপের অভিনব পরিবেশন মানুষকে আকর্ষিত করছে। প্রবেশ দ্বারে বাংলার লিপি থাকছে। এই মণ্ডপে এলে মাতৃভাষায় জগত শিক্ষার পাঠ পাবেন দর্শনার্থীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ