রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট: এবার কোন পথে! বিশেষ করে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের পর আগামীতে কোন দিকে জীবন নদীর ধারা প্রবাহিত হবে সন্তানের, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েন কমবেশি সব অভিভাবকই। মা-বাবা তো বটেই ছাত্রছাত্রীরাও আগামী দিনে কোন বিষয়ে তাদের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে গিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে সেই চিন্তা থাকে তাদেরও। অনেক পথের মধ্যে থেকে একটিকে বেছে নেওয়া যেন কার্যত গোলক ধাঁধা। আর সেই ‘গোলক ধাঁধা’কেই পুজো মণ্ডপের থিম করেছে কোচবিহার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রনগর সেবা সঙ্ঘ সার্বজনীন পুজো কমিটি।
সামাজিক বার্তা দিতে এই থিমে গোটা পুজো মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। এবার এদের পুজোর ৬০ বছর। রজতজয়ন্তীর পর এসবার হীরকজয়ন্তী বর্ষের পুজোর এমন থিম দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের দাবি। সেজন্য জোরকদমে চলছে মণ্ডপসজ্জার কাজ। বাজেট ধরা হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমাতেও থাকছে চমক।
মণ্ডপে ঢুকতে গিয়ে গোলক ধাঁধায় পড়বেন দর্শনার্থীরা। কোন রাস্তায় গিয়ে প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন, সেটা ভাবতে হবে দর্শনার্থীদের। সেইসঙ্গে থাকবে যন্ত্র চালিত ভূত ও শিম্পাঞ্জি। মন্দিরের ঢোকার রাস্তায় দু’ধারে থাকবে শিবের বিভিন্ন রূপের অবয়ব। যা পরিবেশকে আরও গা ছমছমে করে তুলবে। দক্ষিণেশ্বরের শিল্পী অমল পাঁজা ও তাঁর সহযোগী শিল্পীদের নিপুণ হাতে গড়ে তোলা হচ্ছে গোটা প্যান্ডেলটি।
পুজো উদ্যোগতারা জানিয়েছেন, পঞ্চমীতে উদ্বোধন হবে। ওই দিনই এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের সংবর্ধনা, দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি রাখা হয়েছে। এছাড়াও পুজোর ক’দিন চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রজতজয়ন্তী বর্ষের পুজোয় থিম করা হয়েছিল ‘ভাব সাগর’। এই পুজো কমিটি বিশ্ববাংলার তরফে কোচবিহার জেলায় সেরার সেরা নির্বাচিত হয়েছিল। পুজো কমিটির সম্পাদক বক্কুনারায়ণ মুখোপাধ্যায় বলেন, ৭৬ বছর আগে পাড়ায় বালক সঙ্ঘ নামে পথ চলা শুরু হলেও পরবর্তীতে নামকরণ হয় রবীন্দ্রনগর সেবা সঙ্ঘ। ৬০ বছর আগে প্রথম শুরু করা হয়েছিল দুর্গাপুজো। তারপর থেকে প্রতিবছর নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করছি আমরা। পুজো কমিটির সভাপতি অশোককুমার ঘোষ বলেন, এবছর আমাদের পুজোর হীরকজয়ন্তী। এবারের পুজোর থিম ‘গোলক ধাঁধা’। আমরা আশাবাদী, মণ্ডপে এসে দর্শনার্থীরা এক নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘরে ফিরবেন। নিজস্ব চিত্র।