Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি আইনজীবী, পুলিস কর্তার আপ্ত সহায়কের বাড়ি থেকেই ল্যাপটপ চুরি

পুলিস কর্তার আপ্ত সহায়ক থেকে সরকারি আইনজীবী, দু’দিনের ব্যবধানে দু’জনের বাড়ি থেকে ল্যাপটপ চুরি যাওয়ায় বাঁকুড়া শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সরকারি আইনজীবী, পুলিস কর্তার আপ্ত সহায়কের বাড়ি থেকেই ল্যাপটপ চুরি
  • ৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পুলিস কর্তার আপ্ত সহায়ক থেকে সরকারি আইনজীবী, দু’দিনের ব্যবধানে দু’জনের বাড়ি থেকে ল্যাপটপ চুরি যাওয়ায় বাঁকুড়া শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাড়ির দরজা খোলা পেয়ে চোর ল্যাপটপ দুটি নিয়ে চম্পট দিয়েছে। সরকারি আইনজীবীর চেম্বারের বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরায় দু’জন মহিলার ছবি ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ‘বানজারা’ প্রকৃতির ওই দুই সন্দেহভাজন মহিলা চেম্বারে ঢোকে। আপাতত পুলিসের সন্দেহের তির তাদের দিকেই রয়েছে। তবে পুলিস কর্তার আপ্ত সহায়কের বাড়ির চুরির ঘটনার ব্যাপারে তদন্তকারীরা তেমন তথ্য এখনও পাননি। ‘বানজারা’ গ্যাং নিয়ে পুলিসের তরফে সকলকে সতর্ক করা হচ্ছে।  

Advertisement

এক পুলিস আধিকারিক বলেন, দু’দিন আগেই জেলা পুলিসের কর্তার আপ্ত সহায়কের জুনবেদিয়া মোড় এলাকার বাড়ি থেকে ল্যাপটপ চুরি যায়। ওই পুলিস কর্মী সদর থানায় মামলা রুজু করেছেন। সরকারি আইনজীবী অবশ্য থানায় মিসিং ডায়েরি করেছেন। সিসি ক্যামেরার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়েছে।  পুলিস কর্তার আপ্ত সহায়ক এনিয়ে কিছু বলতে চাননি। সাইবার ক্রাইম মামলার সরকারী আইনজীবী সায়ন্তন চৌধুরী বলেন, বাতানুকূল যন্ত্র বসানোর জন্য বৃহস্পতিবার শহরের স্কুলডাঙ্গার চেম্বারে মিস্ত্রি আসার কথা ছিল। ফলে চেম্বার খোলা রেখেই আমি বাঁকুড়া আদালতে গিয়েছিলাম। বিকেলে ফিরে ল্যাপটপ চুরি যাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করি। পুলিসের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। দ্রুত ল্যাপটপ উদ্ধার না হলে আমার কাজের সমস্যা হবে।  পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বানজারা বা যাযাবর সম্প্রদায়ভুক্তরা বেশিদিন এক জায়গায় থাকে না। গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রী মেরামতের নাম করে তারা জায়গায় জায়গায় ঘাঁটি গাড়ে। তার আড়ালেই তারা অনেক সময় চুরি, হাত সাফা‌ই করে থাকে। তদন্তে নেমে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিস জানতে পেরেছে, আটপৌড়ে শাড়ি বা শালোয়ার কামিজ পরে বানজারা গ্যাংয়ের মহিলারা শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাড়ির সদর দরজা খোলা দেখতে পেলেই ঢুকে পড়ছে। ইতিউতি চেয়ে একেবারে ঘরের মধ্যে ঢুকতেও তারা বেশি সময় নেয় না। ওইসময় কেউ দেখে ফেললে জল খাওয়ার অজুহাত দেখায়। কেউ না থাকলে চোখের সামনে দামি যা কিছু পাওয়া যায়, তা নিয়ে মুহূর্তে চম্পট দিতে ওই মহিলারা সিদ্ধহস্ত। গরমের মরশুমে ওই ধরনের প্রবণতা আরও বাড়বে বলে পুলিস আধিকারিকরা আশঙ্কা করছেন। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সরকারি আইনজীবীর অফিস চেম্বারের সিসি ক্যামেরায় বন্দি হওয়া দুই ‘বানজারা’ গ্যাংয়ের মহিলার পরনে তুঁতে ও গোলাপি রংয়ের চুড়িদার ছিল। তাদের মধ্যে একজনের হাতে একটি সবুজ রংয়ের থলি ছিল। খালি পায়েই তারা ছিল। কোনও বাড়িতে ঢুকে ‘অপারেশন’ চালানোর সময় চটি খোলা-পড়ার সময়টুকু যাতে ‘নষ্ট’ না হয়, তারজন্য বেশিরভাগ সময় তারা খালি পায়েই থাকে। ঘটনার পর সদর থানার পুলিস শহর ও সংলগ্ন এলাকার তন্ন তন্ন করে খুঁজলেও ওই দুই মহিলার হদিশ পাওয়া যায়নি। তারা ভিন জেলা থেকে এসেছিল বলেই তদন্তকারীরা মনে করছেন। ফলে ল্যাপটপ দুটি নিয়ে তারা ফের অন্য জেলায় চলে গিয়েছে বলে পুলিস কর্তারা আশঙ্কা করছেন।          

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ