নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একদিনের ব্যবধানে রাতের অন্ধকারে পরপর দু’বার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ঢুকে খাবারের জিনিস, রান্নার সরঞ্জাম ইত্যাদি চুরির অভিযোগ উঠেছে। থানায় অভিযোগ জানানোর পরেও অব্যাহত রয়েছে দুষ্কৃতী তাণ্ডব। দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিস কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার ডোমজুড়ের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। লাগাতার চুরির ঘটনায় শিশু ও মায়েদের এখন খাবারের জোগান দেওয়াই অসম্ভব হয়ে উঠেছে সেখানে। প্রশাসনের একাধিক দপ্তরে হন্যে হয়ে ঘুরছেন এই কেন্দ্রের কর্মীরা।
ডোমজুড়ের নিবড়া কাটলিয়া এলাকায় রয়েছে ২৭৭ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের উপর আশপাশের গর্ভবতী মা ও শিশু মিলিয়ে প্রায় ১০৮ জন নির্ভরশীল। রোজ প্রায় ৪০ জন শিশু পড়তে আসে এখানে। জানা গিয়েছে, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র খুলতে গিয়ে সেখানকার শিক্ষিকা সুমিত্রা প্যাটেল দেখেন, ঘরের ভিতর সবকিছু লণ্ডভণ্ড অবস্থায় ছড়িয়ে রয়েছে। আলমারির তালা ভেঙে লুট করা হয়েছে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য রাখা ডিমের ট্রে, প্রায় ৩০ কেজি চাল-ডাল, তেল, একাধিক ছোট-বড় হাঁড়ি, খুন্তি সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। সঙ্গে সঙ্গে ডোমজুড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এরপর গত সোমবার সকালে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র খুলতেই ফের লুটপাটের ঘটনা সামনে আসে। ভিতরে হাঁড়ির ঢাকনা সহ রান্নার সরঞ্জামের যেটুকু বাকি ছিল, সেগুলিও লুট হয়ে গিয়েছে। এরপরেই আইসিডিএস সুপারভাইজার, শিশু বিকাশ প্রকল্পের আধিকারিক, ডোমজুড়ের বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জানান সুমিত্রাদেবী।
অভিযোগ, বারবার চুরির ঘটনার ঘটলেও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য থামছে না। সেন্টারের পিছনে, ভেন্টিলেটরের ফাঁকা অংশ দিয়ে দুষ্কৃতীরা ভিতরে ঢুকে বারবার এই চুরি করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁরা জানান, এলাকায় বহাল তবিয়তে তাণ্ডব চালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। অথচ গোটা ঘটনায় পুলিস নিষ্ক্রিয়। এদিন ফের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জানালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। শিক্ষিকা সুমিত্রাদেবী বলেন, ‘পুলিস শুধু একবার এসে দেখে গিয়েছে। তারপর আর কেউ পরিদর্শন করতে আসেননি। নিরাপত্তা নেই। কীভাবে সেন্টার চালাব জানি না।’ সুমিত্রা প্যাটেল বাদেও একজন রাঁধুনি রয়েছেন এই কেন্দ্রে। দু’জনেই সামলান সবটা। এই পরিস্থিতিতে রান্নার কাজ কীভাবে চলবে, তা নিয়ে দিশাহারা তাঁরা। জানা গিয়েছে, আপাতত অন্য এলাকার একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে রান্নার সরঞ্জাম এনে কাজ চালানো হচ্ছে। তবে খাবার না মেলায় আসা বন্ধ করে দিয়েছে শিশুরা। বিষয়টি নিয়ে হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে চুরির অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।’ নিজস্ব চিত্র