Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরশুড়ায় বিধায়ক তহবিলের টাকার কাজ চলছে এখনও

নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি ছিল অনেক। কতটা পূরণ করতে পেরেছেন পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক? বাসিন্দাদের সময় এসেছে হিসাব কড়ায়গণ্ডায় মিলিয়ে নেওয়ার।

পুরশুড়ায় বিধায়ক তহবিলের টাকার কাজ চলছে এখনও
  • ২৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রামকুমার আচার্য, পুরশুড়া: নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি ছিল অনেক। কতটা পূরণ করতে পেরেছেন পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক? বাসিন্দাদের সময় এসেছে হিসাব কড়ায়গণ্ডায় মিলিয়ে নেওয়ার। বিদায়ী বিধায়ক বিমান ঘোষ দাবি করছেন, বিধায়ক তহবিলের ১০০ শতাংশ টাকা তিনি খরচ করে ফেলেছেন। তারমধ্যে কিছু কাজ এখনো চলছে। এবারও তিনি এই কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থী হয়েছেন। ফলে তিনি উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই ভোট প্রচারে নেমেছেন। যদিও তাঁর দাবিকে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলের প্রার্থীরা। 

Advertisement

পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমানবাবু বলেন, বিধায়ক হিসাবে পাঁচ বছরে তহবিলে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়। ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই কোটি টাকা বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে খরচ হয়ে গিয়েছে। বাকি টাকার কাজ কোথাও চলছে, কোথাও আবার টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। কিছু সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন হয়ে যাবে। 
বিধায়ক জানিয়েছেন, পুরশুড়া বিধানসভাজুড়ে ১১০টি স্ট্রিট লাইট লাগানো হয়েছে। ৪০টি হাইমাস্ট লাইট, চারটি স্কুলে শ্রেণিকক্ষ, পাঁচিল, সাইকেল স্ট্যান্ড, বিভিন্ন মোড়ে সোলার চালিত ১২টি জলছত্র হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু প্রকল্পের কাজ চলছে। চলাফেরায় অক্ষম এমন প্রায় ২২ জনকে হুইল চেয়ার দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে। অন্যান্য সহযোগিতাও করেছি। 
বিধায়কের আক্ষেপ, পুরশুড়ায় সবজি সংরক্ষণের জন্য হিমঘর তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। কিন্তু, সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা হয়নি। এছাড়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কার, বাঁশের সাঁকোগুলি কংক্রিট করতেও রাজ্যের কাছে আবেদন জানিয়েছি। সেগুলি আমার তহবিল থেকে হবে না। তবে রেল পরিষেবার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সুবিধা পেতে চলেছে পুরশুড়া সহ আরামবাগ মহকুমার মানুষ। রসুলপুরে হল্ট স্টেশন, নতুন লাইন ও খানাকুল পর্যন্ত নতুন রেললাইনের সার্ভে হয়েছে। এবার ভোটে জিতলে অসম্পূর্ণ কাজগুলি হবে। 
পুরশুড়ার তৃণমূল প্রার্থী পার্থ হাজারি বলেন, পুরশুড়ায় পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করেননি বিধায়ক। কাজ সম্পূর্ণ করার দাবি ভিত্তিহীন। বিধায়কের কাজের হিসাব তাঁর দলের লোকজনই চাইছেন।  একাধিক অস্থায়ী সেতু বেহাল হয়ে পড়েছে। সেইদিকে নজর দেননি। কেন্দ্র থেকে কোনো বরাদ্দও আনতে পারেননি। মানুষ বিধায়কের কাছ থেকে কোনো পরিষেবা পাননি। 
পুরশুড়া বিধানসভা এলাকাটি পুরশুড়া, আরামবাগ ও খানাকুল-১ ব্লকের একাংশ নিয়ে গঠিত। মূলত কৃষি প্রধান এলাকা। তিন ফসলি জমিতে সেচের উন্নতিতে একাধিক দাবি রয়েছে। রাজ্যে পালা বদলের পর পুরশুড়ায় নির্বাচনে দু’বার তৃণমূল জেতে। ২০২১-এর নির্বাচনে সেখানে বিমানবাবু জয়ী হন। এবার ফের তিনি প্রার্থী। লড়াইয়ের ময়দানে তৃণমূল ও সিপিএমের ভূমিপুত্র প্রার্থীরা রয়েছেন। তাই পুরশুড়ায় এবার লড়াই কঠিন হতে চলেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ