হ্যালোজেন লাইট ও বার্নার চালিয়ে চলছে কালীপ্রতিমা শুকনোর কাজ
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব  প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: কালীপুজোর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। অথচ আকাশের মুখ ভার। মাঝে মধ্যেই নামছে বৃষ্টি।  আর তাতেই মাথায় হাত পড়েছে মৃৎশিল্পীদের। মাটির প্রতিমা শুকোতে না চাওয়ায় দিনভর পাখা, হ্যালোজেন লাইট ও বার্নার চালিয়ে মূর্তি শুকানোর কাজ চলছে। একদিকে কালীপুজোর প্রতিমা তৈরির তাড়া, অন্যদিকে জগদ্ধাত্রী পুজোর অর্ডার সামলানোর চাপ। সব মিলিয়ে কার্যত নাওয়া-খাওয়া ভুলে মৃৎশিল্পীরা দিনরাত এক করে কাজ করছেন। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে সময়মতো প্রতিমা তৈরি ও মণ্ডপের কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন পুজো উদ্যোক্তারাও।

Advertisement

মেদিনীপুর শহরের মৃৎশিল্পীরা জানাচ্ছেন, গত কয়েকদিন ধরে একটানা বৃষ্টি না হলেও মাঝে মধ্যেই বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘলা থাকায় প্রতিমার গায়ে লাগানো মাটি কিছুতেই শুকোতে চাইছে না। দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করেও কাজ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন শিল্পীরা। অনেকেই সারারাত কাজ করার পর ফের সকাল থেকে কাজে নেমে পড়ছেন। 
এরই মধ্যে কালীপুজোর পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রতিমা তৈরির অর্ডার আসতে শুরু করেছে। কিন্তু সময়ের অনেক শিল্পী অভাবে নতুন অর্ডার নিতে পারছেন না। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিমা তৈরি করে উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।প্রসঙ্গত, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে কয়েক হাজার কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গাপুজোর আগেও বৃষ্টির কারণে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল মৃৎশিল্পীদের। পুজো মিটতেই তাঁরা কালীপুজোর প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছিলেন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় ফের তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। এক মৃৎশিল্পী বলেন, বৃষ্টির কারণে মাটি শুকোতে বার্নার চালাতে হচ্ছে। তার জন্য বাড়তি টাকা দিয়ে কালোবাজার থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। দুর্গাপুজোর সময় এক অটো মাটির দাম ছিল ৮০০ টাকা। এখন সেই মাটিই কিনতে হচ্ছে দুই হাজার টাকায়। 
মেদিনীপুর শহরের তোলাপাড়ার মৃৎশিল্পী সুদীপ কর্মকার এবছর প্রায় ৭০টি কালীপ্রতিমা তৈরি করছেন। তিনি বলেন, প্রতিমার মাটি শুকোতে বার্নার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই সময় অনেকেই নতুন করে প্রতিমার অর্ডার দিতে আসছেন। কিন্তু সময়ের অভাবে তাঁদের ফেরাতে হচ্ছে। লাভের তুলনায় ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি। অন্যদিকে, মেদিনীপুর শহরের এক পুজো কমিটির উদ্যোক্তা অপরূপ বক্সী বলেন, মাঝে মধ্যেই বৃষ্টি হওয়ায় দুশ্চিন্তা রয়েছে। অনেক জায়গায় এখনও প্যান্ডেল তৈরির কাজ পুরোদমে শুরু করা যায়নি।-নিজস্ব চিত্র