Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বদলে গেল টানা এক দশকের কর্মসংস্কৃতি, ফলতা থানায় রোজ অভিযোগ জমার ধুম!

ভোট পর্বের কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতায় এসে ঘোষণা করেছিলেন, জাহাঙ্গির ও তাঁর দলবলের হাতে যত মানুষ অত্যাচারিত হয়েছেন, তাঁরা সকলেই এবার থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাবেন।

বদলে গেল টানা এক দশকের কর্মসংস্কৃতি, ফলতা থানায় রোজ অভিযোগ জমার ধুম!
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, বজবজ: ভোট পর্বের কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতায় এসে ঘোষণা করেছিলেন, জাহাঙ্গির ও তাঁর দলবলের হাতে যত মানুষ অত্যাচারিত হয়েছেন, তাঁরা সকলেই এবার থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাবেন। পুলিস অফিসারদের বলেছি, এবার কাগজকলম নিয়ে বসবেন। যতজন অভিযোগ জমা দিতে আসবেন, তা সবই নথিভুক্ত করবেন। অভিযুক্ত একজনও ছাড় পাবে না।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকে রোজই ফলতা থানায় নানা বয়সি অত্যাচারিত নারী-পুরুষ অভিযোগ জমা দিতে ভিড় করছেন। সামান্য কদিনেই অভিযোগের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুশো প্রায়। তাতে মারধর, বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট, জমি দখল, হাজার হাজার টাকা জরিমানা আদায়, দোকান দখল, মিথ্যা অভিযোগে জেল খাটানো, মহিলাদের শ্লীলতাহানি থেকে বাড়ি তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক সব অভিযোগ রয়েছে। এসব বাছাই করে নথিভুক্ত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে থানার অফিসারদের। 
এই ব্যাপারে ফলতা থানার এক অফিসার বলেন, আসলে গত দশবছরের বেশি সময় ধরে এখানে পুলিসের কোনো কাজ ছিল না। কারণ, জাহাঙ্গির ও তাঁর দলবল এবং চরের ভয়ে কেউই থানায় অভিযোগ জানাতে আসতেন না। ফলে অভিযোগ নিয়ে জিডি করা কিংবা এফআইআর করার কাজ প্রায় ভুলতেই বসেছিলেন থানার কর্মরতরা। থানার ভিতরকার কর্মসংস্কৃতি লাটে উঠেছিল। সারাদিনে এদিক-ওদিক করে হাতে গোনা কয়েকটি জিডি হত। যদি কেউ অভিযোগ নিয়ে থানা পর্যন্ত পৌঁছানোর দুঃসাহস কখনো দেখাত তাহলে তার কপালে নির্ঘাত দুঃখ লেখা থাকত—সেই রাতেই বেপরোয়া হামলা নেমে আসত অভিযোগকারীর বাড়িতে! ফলত, পুলিসের কাজ ওই জমানায় ভীষণই কমে গিয়েছিল। 
এই থানাতেও বেশ কয়েকজন ‘পোষ্যপুত্র’ ছিল জাহাঙ্গিরের। তারা এখানকার গোপন খবর পাচার করত। তাই পুলিসের কতিপয় আধিকারিক চাইলেও ভয়ে কোনো পদক্ষেপ করতে সাহস পেতেন না। এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণায় দিকনির্দেশে আমূল বদল এসেছে। ফলতার বিভিন্ন গ্রাম থেকে দলে দলে লোকজন আসছেন থানায় অভিযোগ জমা দিতে। অভিযোগ, এখনো অনেক পুলিশকর্তা আগেকার আলসেমি ভাবটা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। 
ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা বলেন, সমস্ত অভিযোগ এফআইআর হিসাবেই নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে। এটি মুখ্যমন্ত্রীরই নির্দেশ। ফলতা থানার অফিসারদের কাছে আমাদের বার্তা হল, অভিযোগ নিয়ে অভিযোগকারীর হাতে ‘রিসিভড কপি’ দিতে হবে পুলিশকে। এই প্রশ্নে কোনো টালবাহানা বরদাস্ত করা হবে না। কারণ, ইতিপূর্বে থানা একেবারে জাহাঙ্গিরের ভয়ে জুজু হয়ে ছিল। এখন তা আর হবে না। 
স্থানীয় বিধায়ক আরো বলেন, থানার ভিতর জাহাঙ্গিরের কতিপয় লোক এখনো গোপনে তথ্য পাচার করছেন। তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ডায়মন্ডহারবার পুলিস সুপারের নজরে আনা হবে পুরো বিষয়টি। 
এদিকে, জাহাঙ্গির কোথায় তা নিয়ে সোমবারও দিনভর চর্চা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, কলকাতায় জাহাঙ্গিরের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। সেখানেই ছেলেকে নিয়ে আত্মগোপন করেছেন তিনি। তবে তাঁকে হাইকোর্টের দেওয়া রক্ষাকবচের শেষদিন আজই (মঙ্গলবার, ২৬ মে)। স্বাভাবিকভাবেই আদালতে তাঁকে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ