নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তায় ব্যর্থতার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর পদত্যাগ দাবি করল তৃণমূল। সেইসঙ্গে অমিত শাহের মঞ্চে বসে অপ্রীতিকর বক্তব্য রাখার জন্য অপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের ইস্তফা চেয়েছে তৃণমূল। জোড়াফুল শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সিঁদুরের অসম্মান করছেন বিজেপি নেতারা। তাঁদের যোগ্য জবাব ভোট বাক্সে দেবেন বাংলার মহিলারা।
এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলা সফর করে ফেললেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ। ছব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে দলের কর্মীদের চাঙ্গা করতে ভোকাল টনিক দিলেন তাঁরা। মোদির মতো একই পথে হেঁটে রবিবার অমিত শাহ রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের সমালোচনায় সরব হলেন। যার জবাব দিতে দেরি করেনি তৃণমূল। এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে সীমান্তের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিঁধেছেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার ও রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। পহেলগাঁওতে জঙ্গিহানায় ঘটনাটি টেনে এনে অমিত শাহের উদ্দেশে চন্দ্রিমার বক্তব্য, আপনার ব্যর্থতার জন্যই ২৬ জন নিরাপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে কেন যথাযথ নিরাপত্তার বন্দোবস্ত ছিল না। কেন কোনও আগাম খবর ছিল না। ফলে পর্যটকদের পরিপূর্ণ নিরাপত্তা দিতে না পারার জন্য আপনি দায়ী। আপনার পদত্যাগ করা উচিত। পাশাপাশি সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, সীমান্তে সুরক্ষার দায়িত্ব বিএসএফের। সেখান থেকে যদি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে, তাহলে তার দায়ভার বর্তায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি। অনুপ্রবেশ রুখতে পারেননি। দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করতে না পারার জন্য অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকার অধিকার নেই। তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, অপারেশন সিন্দুর নিয়ে রাজনীতি করছেন বিজেপি নেতারা। মোদি-শাহ সকলেই রাজনৈতিক ময়দানে সিঁদুর বেচতে বেরিয়েছেন। সিঁদুরের ফেরিওয়ালা হিসেবে বিজেপি নেতারা যে বক্তব্য রাখছেন, তা অবমাননাকর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের জন্য ক্ষতিকারক। তাই তাঁকে বলব, দেশের স্বার্থে সিঁদুর নিয়ে খেলবেন না।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের এখনও বছর খানেক বাকি। কিন্তু নির্বাচনী রণডঙ্কা বাজিয়ে দিয়েছে বিজেপি। ছাব্বিশ সালে বাংলা দখলের যে স্বপ্ন বিজেপি দেখছে, তা অলীক বলে দাবি করেছে তৃণমূল শিবির। চন্দ্রিমা বলেছেন, বাংলার ভোটের আকাশ বিজেপির পক্ষে নয়। বাংলার মহিলারা জোটবদ্ধ বিজেপিকে ভোট বাক্সে জবাব দেওয়ার জন্য। কাকলির কথায়, ২৫০ আসন নিয়ে তৃণমূল ফের বাংলার ক্ষমতায় আসবে। আর নড়েবড়ে কেন্দ্রের সরকার আগে নিজের দিকে তাকাক।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা, বাংলার প্রতি কুৎসা, বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ তুলেও শাহকে কড়া ভাষায় নিশানা করেছে তৃণমূল। এমনকী কয়লা মাফিয়াদের সঙ্গে শাহের পুরনো একটি ছবি সামনে এনেও সরব হয়েছে জোড়াফুল শিবির। এদিন শাহের সঙ্গে একই মঞ্চে থাকা কেন্দ্রের শিক্ষা মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের পদত্যাগ দাবি করেছে তৃণমূল। বলা হয়েছে, সুকান্তবাবু যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা একজন মন্ত্রীর মুখে শোভা পায় না। অপমানসূচক কথাবার্তা বলেছেন উনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, আগামী দিনে সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্যের প্রতিবাদ ও বিজেপির বিরুদ্ধে কর্মসূচি নিতে চলেছে তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস।



