Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মেলে দুর্যোগের পূর্বাভাস, কৃষক-মৎস্যজীবীদের জন্য পরামর্শ, মোবাইল নয়, আবহাওয়া কেন্দ্র বাড়ির দেওয়ালই

টিভি, রেডিও কিংবা মোবাইলে নয়, বাড়ির দেওয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে জেনে নেওয়া যায় আবহাওয়ার খবর। গ্রামের ছ’টি বাড়ির দেওয়ালে রয়েছে এই ব্যবস্থা। গত প্রায় তিন বছর ধরে কাকদ্বীপের রামগোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাশিয়াবাদ ও উত্তর কাশিয়াবাদের বাসিন্দাদের কাছে আবহাওয়ার হাল বোঝার জন্য এটাই সহজ উপায় হয়ে উঠেছে।

মেলে দুর্যোগের পূর্বাভাস, কৃষক-মৎস্যজীবীদের জন্য পরামর্শ, মোবাইল নয়, আবহাওয়া কেন্দ্র বাড়ির দেওয়ালই
  • ২৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বপন দাস  কাকদ্বীপ

Advertisement

টিভি, রেডিও কিংবা মোবাইলে নয়, বাড়ির দেওয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে জেনে নেওয়া যায় আবহাওয়ার খবর। গ্রামের ছ’টি বাড়ির দেওয়ালে রয়েছে এই ব্যবস্থা। গত প্রায় তিন বছর ধরে কাকদ্বীপের রামগোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাশিয়াবাদ ও উত্তর কাশিয়াবাদের বাসিন্দাদের কাছে আবহাওয়ার হাল বোঝার জন্য এটাই সহজ উপায় হয়ে উঠেছে। ওই ছ’টি বাড়ি যেন তাঁদের কাছে ‘আবহাওয়া কেন্দ্র’। গ্রামবাসীরা বলছেন, অনেকের খবর দেখার সুযোগ নেই। ফোনে চোখ রেখে আবহাওয়ার খবর জানা যাবে, তেমন স্মার্টফোনও নেই বেশিরভাগের কাছে। তাছাড়া, টিভি বা রেডিওর খবরে কখন আবহাওয়ার কথা বলবে,  তার জন্য কান পেতে থাকতে হয়। অথচ, দু’টি গ্রামের এই ছ’টি বাড়ির সামনে এলে এক ঝলকে দেখে নেওয়া যায় আবহাওয়ার খবর। শুধু তাই নয়, ঝড়, অতিবৃষ্টি বা কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষকদের কী কী আগাম সতর্কতা নেওয়া দরকার, মৎস্যজীবীদের জন্য কোনও বার্তা আছে কি না, সেসবও লেখা থাকে দেওয়ালে। স্বভাবতই এমন বিনা খরচের পরিষেবায় উপকৃত হচ্ছেন গ্রামের বহু মানুষ। স্থানীয় কয়েকজন তরুণ-তরুণীর এমন অভিনব উদ্যোগের দু’হাত তুলে প্রশংসা করছেন সবাই। 
স্থানীয় সূত্রে খবর, দু’টি গ্রামে প্রায় ১৫০টি আদিবাসী পরিবারের বসবাস। গ্রামবাসীদের একটা বড় অংশ নদী থেকে মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। বেশ কিছু পরিবার চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত। নদীতে যাঁরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান, জলে নামার আগে আবহাওয়ার খবর জেনে নেওয়া তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জলে-জঙ্গলে গিয়ে দুর্যোগের কবলে পড়লে বিপদ বাড়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে চাষবাসের ক্ষতিও হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস সবার কাছে থাকলে কৃষক হোক বা মৎস্যজীবী, তাঁদের মতো করে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারেন। এই কথা মাথায় রেখেই গ্রামের জনা পাঁচেক তরুণ-তরুণী বাড়ির দেওয়ালে আবহাওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পরিবেশন করছেন। এক দিনের নয়, পরপর পাঁচ দিনের পূর্বাভাস দেওয়ালে লেখা হয় চক দিয়ে। 
কাশিয়াবাদের মুন্ডাপাড়ার বাসিন্দা যমুনা মুন্ডা বলেন, ‘ওই বাড়িগুলিই এখন আমাদের আবহাওয়া কেন্দ্র। প্রতিদিন সকালে গিয়ে আবহাওয়ার খবর পড়ে কাজে বেরই। পরপর পাঁচ দিনের তারিখ উল্লেখ করে বৃষ্টিপাত, বাতাসের গতি ও অভিমুখ, তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা লেখা থাকে। আমাদের অনেক সুবিধা হয়।’  এই কর্মকাণ্ডের অন্যতম উদ্যোগী পিয়ালী মুন্ডা কাশিয়াবাদে ‘আবহাওয়া দিদিমণি’ নামেই পরিচিত। তিনি বলেন, ‘গোবোদিয়া নদীর পাশে আমাদের এই দু’টি গ্রাম। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। আমরা দেখেছি, গ্রামবাসীদের কাছে আবহাওয়ার কোনও তথ্য না থাকার কারণে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। এখন তাঁরা অনেক সচেতন। দেওয়ালে লেখা তথ্য থেকে আগামী পাঁচ দিনের সম্ভাব্য আবহাওয়া জেনে তবে কাজে নামছেন।’ আবহাওয়ার তথ্য ও কৃষি সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি সংস্থার সাহায্য নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ