Bartaman Logo
১৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চূড়ান্ত বিপদসীমা পার করেছে কেলেঘাই নদীর জল, পটাশপুরে জীবন বাজি রেখে বাঁধ রক্ষার লড়াই জারি

অতিবৃষ্টিতে কেলেঘাই নদীর জল ফুলেফেঁপে চূড়ান্ত বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। সেইসঙ্গে পটাশপুরে ফের বন্যার ভ্রুকুটি শুরু হয়েছে।

চূড়ান্ত বিপদসীমা পার করেছে কেলেঘাই নদীর জল, পটাশপুরে জীবন বাজি রেখে বাঁধ রক্ষার লড়াই জারি
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: অতিবৃষ্টিতে কেলেঘাই নদীর জল ফুলেফেঁপে চূড়ান্ত বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। সেইসঙ্গে পটাশপুরে ফের বন্যার ভ্রুকুটি শুরু হয়েছে। রবিবার সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস, এগরার মহকুমা শাসক কর্মবীর কেশব, সেচদপ্তরের কাঁথি ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক মণ্ডল পটাশপুরের গোকুলপুর পঞ্চায়েত এলাকা থেকে নদীপথে নৌকায় আমগেছিয়া পর্যন্ত পরিদর্শন করেন। তারপর আমগেছিয়ায় সেচদপ্তরের ক্যাম্প অফিসে প্রশাসনিক মিটিং হয়। আমগেছিয়ায় কেলেঘাই নদীতে চূড়ান্ত বিপদসীমা অর্থাৎ ইডিএল ৬.৯মিটার। যদিও শনিবার বিকাল থেকে রবিবার বিকাল পর্যন্ত ওই এলাকায় জলস্তর ছিল ৭.২২মিটার। চূড়ান্ত বিপদসীমা পার করে কেলেঘাই নদীর জল বইছে। যে কোনো সময় বিপদ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করে প্রায় ৫০০শ্রমিক বিভিন্ন জায়গায় নদীবাঁধে মাটিভর্তি বস্তা দিয়ে উঁচু করার কাজে লেগেছেন। আগামী দু’দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়মিত বাঁধ ভিজিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

কেলেঘাই নদীর জল বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয় পটাশপুর-১ ব্লকের আমগেছিয়া ও সংলগ্ন তালছিটকিনি। ওই এলাকায় নদীর বাঁক থাকায় নদীবাঁধের উপর চাপ বাড়ে। ২০২১সালে ১৭সেপ্টেম্বর তালছিটকিনি গ্রামে কেলেঘাই নদীবাঁধ ভেঙে গোটা পটাশপুর ও ভগবানপুর প্লাবিত হয়েছিল। পাঁচ বছর বাদে আবারও সেই আমগেছিয়া ও তালছিটকিনি এলাকা নিয়ে প্রশাসন ও সেচদপ্তরের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমগেছিয়ায় সেচদপ্তরের অফিসে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখানে সর্বক্ষণের জন্য সেচদপ্তরের এসডিও তানভীর আলমকে নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া, নদীবাঁধের বিভিন্ন জায়গায় মাটিভর্তি বস্তা ফেলে উঁচু করা হচ্ছে। অন্তত পাঁচশো শ্রমিক ওই কাজে যুক্ত বলে সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
কেলেঘাই নদীর উপর একাধিক বাঁশ ও কাঠের সাঁকো ভেসে গিয়েছে। রবিবার ময়নার আসনান থেকে ভগবানপুরের গুড়গ্রাম সংযোগকারী বাঁশের সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া আমড়াখালি, চারুবাবুর খেয়াঘাটে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়েছে। আমগেছিয়া, বাড়মক্ষল, লক্ষ্মীরচক, জাতকাটা বাজার প্রভৃতি এলাকায় নদীবাঁধ মেরামতের কাজ জোরকদমে চলছে। রাতদিন নজরদারি রাখা হচ্ছে। সেচদপ্তরের কাঁথির এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক মণ্ডল শনিবার বিভিন্ন এলাকা ভিজিট করেন। রবিবার সেচমন্ত্রী নদীপথে নৈপুর, গোকুলপুর, মহেশপুর, অমরপুর সহ কেলেঘাই নদীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করার পর আমগেছিয়ায় দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে মিটিং করেন। সেখানে এগরার মহকুমা শাসক এবং পটাশপুরের বিডিও উপস্থিত ছিলেন। আমগেছিয়া ও তালছিটকিনি এলাকায় নদীবাঁধে ২৪ঘণ্টা নজরদারি রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নদীপাড় এলাকার মানুষজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাঁধরক্ষার লড়াইয়ে এগিয়ে এসেছেন। বৃষ্টির জলে অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট, ধানজমি, ঘরবাড়ি জলমগ্ন।
সেচমন্ত্রী বলেন, আমরা এদিন কেলেঘাই নদী বরাবর পরিদর্শন করেছি। নদীতে জলস্তর বেড়েছে। নদীবাঁধ রক্ষায় আমাদের দপ্তরের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমগেছিয়ায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। রাতদিন নজরদারি চলছে। অযথা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ